ইসরায়েল মূলত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। যার উদ্দেশ্য, আঞ্চলিক চুরি করা প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মানবতার বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এসব মন্তব্য করেছেন একজন অ্যামেরিকান মানবাধিকার কর্মী ভেটেরান্স ফর পিসের সাবেক জাতীয় পরিচালক মাইক ফার্নার। দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরোধী এই কর্মী ইরানের প্রেস টিভি ওয়েবসাইটকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পশ্চিমাদের সমর্থনের কারণে ইসরায়েলি সরকার আগ্রাসন চালাতে উৎসাহিত হয়েছে। যেমন ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ঘটনা।
এই যুদেধ অন্তত এক হাজার ইরানি নিহত হন। মাইক ফার্নার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আগামীকালই এই সবকিছু শেষ করতে পারে। কিন্তু অস্ত্র ব্যবসায়ী ও গণহত্যাকারী হিসেবে, তারা তাদের যুদ্ধ শেষ করতে চায় না...কারণ যুদ্ধ লাভজনক ব্যবসা।
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার যুদ্ধে মার্কিন সহযোগিতার প্রতিবাদ করার জন্য মঙ্গলবার নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার হওয়া ফার্নার বলেন, মার্কিন সরকার ফ্যাসিস্ট। যুদ্ধযন্ত্র হল ফ্যাসিবাদের একটি হাত যা কেটে ফেলার জন্য সময় পার হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা একবিংশ শতাব্দীর অশুভ অক্ষে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক আইনের নির্লজ্জ লঙ্ঘনের বিষয়ে মন্তব্য করে এই প্রবীণ যুদ্ধবিরোধী কর্মী বলেন, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা অর্থ, লোভ, স্বার্থপরতা এবং কর্পোরেট দাতাদের কাছে দায়বদ্ধ। এই যুদ্ধবাজরা বেশ কিছুদিন ধরেই বিশ্বকে পরিচালনা করে আসছে।
তিনি বলেন, এই আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা এখন অকেজো। কারণ এগুলোকে বেচা-কেনা করা যায়। তাদের কাছে গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নৈতিক সাহস নেই।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে লেখা চিঠিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে আগ্রাসী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্ব সংস্থাটির কোনো পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই। ফার্নার বলেন, ইরান ও তার মিত্ররা তাদের সেরা বিকল্পগুলি কী তা অন্য কারও চেয়ে অনেক ভালো জানেন। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর নিজেদের জিজ্ঞাসা করা উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে থামাতে তাদের কী করা উচিত। কার্যকরভাবে বলতে গেলে - আমেরিকান এবং ইসরায়েলি পণ্য বর্জন করতে হবে।
মাইক ফার্নার বলেন, রাজনীতি হলো নিছক নাটক। আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে নজরে রেখেছে। ট্রাম্প অবৈধভাবে কংগ্রেসের বাইরে গিয়ে এই হামলা চালিয়েছেন। যা ইম্পিচ করার মতো অপরাধ। তাকে অভিশংসিত করা উচিত। বিশ্বজুড়ে মানুষের বোঝা উচিত, এই দুই যুদ্ধাপরাধী - ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু - কতটা বিপজ্জনক এবং তাদের গণহত্যার যুদ্ধাপরাধের জন্য জবাবদিহি করার ঝুঁকি নিয়ে তারা ক্ষমতা ছেড়ে দিতে কতটা অনিচ্ছুক।
তিনি বলেন, সংক্ষেপে, মানবতার বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্ররা। এই হুমকির অবিলম্বে মোকাবেলা করা দরকার। মানবতার ভবিষ্যতের জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে বয়কট করতে হবে।
আরও পড়ুন:








