যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইসরায়েল ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্তে সম্মত হয়েছে বলে জানান। এই যুদ্ধবিরতি গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের প্রায় ২১ মাস ধরে চলা যুদ্ধের ইতি টানতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হামাস শর্তসাপেক্ষে এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসের শর্ত না মানলেও আলোচনার জন্য কাতারের রাজধানী দোহায় আলোচকদের পাঠিয়েছেন। নেতানিয়াহু আজ সোমবার ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। সম্ভবত সেখানেই এ নিয়ে একটি চুক্তি করতে চান ট্রাম্প। শনিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পরের সপ্তাহে অর্থাৎ এ সপ্তাহেই একটি গাজা চুক্তি হতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে গাজায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত জিএইচএফ ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে সাহায্য চাইতে গিয়ে অন্তত ৭৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। জুনের শেষের দিকে ইসরায়েলের হারেৎজ সংবাদপত্র জানায়, ইসরায়েলি সেনাদের ইচ্ছাকৃতভাবে খাবারের জন্য অপেক্ষারত নিরস্ত্র মানুষদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মানবাধিকার কর্মীরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।
যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হামাস চাইছে, ইসরায়েলি সেনারা এ বছরের মার্চে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের আগে যে অবস্থানে ছিল সেখানে ফিরে যাক। মে মাসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় নতুন করে বড় ধরনে স্থল অভিযান শুরু করে। নিহত হয় শত শত ফিলিস্তিনি।
মার্চে ইসরায়েল একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে। এবার হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা চায়, এর পুনরাবৃত্তি হবে না। হামাস যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গ্যারান্টি চায়, যুদ্ধবিরতি শেষ হলেও ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু হবে না।
এবারের যুদ্ধবিরতিতে গাজায় অবশিষ্ট ইসরায়েলি বন্দীদের মুক্তির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের মুক্তির বিনিময়ে হামাসের হাতে থাকা ১০ জীবিত ইসরায়েলি বন্দী এবং ১৮ জনের মৃতদেহ হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। জানা গেছে, ৫০ জন ইসরায়েলি বন্দী এখনও গাজায় রয়েছে। যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত।
নেতানিয়াহু মূল প্রস্তাবে সম্মত হওয়া হলেও হামাসের শর্তগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য‘ বলে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, সব বন্দী মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত এবং হামাসকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ শেষ করবেন না। অনেক বিশ্লেষকই হামাসকে ধ্বংস করাকে অসম্ভব বলে অভিহিত করেছেন। এটি নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণ পূরণ করবে মাত্র।
দুর্নীতির অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিচার চলছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আল-আকসা অভিযানের ফলে নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য ইসরায়েলি সমাজে এখনও তাকে ব্যাপকভাবে দায়ি করে। অভিযানে এক ১৩৯ ইসরায়েলি নিহত এবং প্রায় ২৫০ জনকে বন্দী করা হয়েছিল। বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করেন, নেতানিয়াহু গাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান যতক্ষণ না তিনি তার বিরুদ্ধে মামলা খারিজ করার জন্য পর্যাপ্ত রাজনৈতিক প্রভাব অর্জন করতে পারেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী থাকার জন্য যথেষ্ট জনসমর্থনও তৈরি করতে চান।
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক আদনান হায়াজনেহ আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল ও নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নয়। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। ইসরায়েল যা চায় তা স্পষ্ট ... একটি জনগণবিহীন ভূমি। কাজেই ফিলিস্তিনিদের তিনটি বিকল্প দেয়া হয়েছে প্রথমত অনাহারে মারা যান। দ্বিতীয়ত নিহত হন অথবা ভূমি ছেড়ে চলে যান। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা প্রমাণ করেই চলেছে যে, তারা যাই হোক না কেন, ভূমি ছেড়ে যাবেন না।
আরও পড়ুন:








