বৃহস্পতিবার

২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২ চৈত্র, ১৪৩২

সর্বশেষ
সুনামগঞ্জে ধর্ষণচেষ্টা মামলার অভিযোগ প্রত্যাহার ও ফসল ক্ষতিপূরণ দাবিতে মানববন্ধন চুয়াডাঙ্গার মোক্তারপুরে জমি বিরোধে পিটিয়ে একজন নিহত, দুইজন আহত হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত দিতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাড়াশ পৌরসভার ১৭টি রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ সৌদি আরবে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারী বাংলাদেশিদের ১৮ এপ্রিলের মধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ চট্টগ্রামে চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টা দুপুরের মধ্যে ৪৫-৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, ৭ অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কতা জনপ্রশাসনে বড় রদবদল: ৯ নতুন সচিব, ৫ প্রত্যাহার, ৩ জনের দপ্তর পরিবর্তন

গাজায় গণহত্যায় ‘ক্ষুধা’কে অস্ত্র বানিয়েছে ইসরায়েল: অ্যামনেস্টি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৫ ১১:২০

শেয়ার

গাজায় গণহত্যায় ‘ক্ষুধা’কে অস্ত্র বানিয়েছে ইসরায়েল: অ্যামনেস্টি
ছবি সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীরতর করতে ‘ক্ষুধা’কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল—এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সাধারণ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল এখনো পরিকল্পিতভাবে খাদ্য, পানি ও ওষুধের প্রবেশ ঠেকিয়ে গণহত্যা চালাচ্ছে।

লন্ডনভিত্তিক সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস কালামার্ড বলেন, “ইসরায়েল জীবনধারণের মৌলিক উপাদানগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করছে—এটি শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক পদ্ধতিগত কৌশল। এই পরিস্থিতি সরাসরি গণহত্যার সংজ্ঞায় পড়ে।”

অ্যামনেস্টির তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সহায়তা নিতে গিয়ে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হয়েছেন—কখনও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে, কখনও স্রেফ খাবারের খোঁজে পথে বেরিয়ে। সংস্থাটি বলেছে, “গাজার তথাকথিত ‘মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা’ এখন কার্যত একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।”

সংস্থাটি আরও জানায়, সহায়তা নিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক গাজার বাইরে অপেক্ষা করলেও ইসরায়েলের অনুমতি না মেলায় সেগুলো প্রবেশ করতে পারছে না।

এদিকে গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অপুষ্টিজনিত কারণে অন্তত ৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, যা পর্যাপ্ত খাদ্য ও ওষুধ থাকলে রোধ করা যেত।

প্রতিবেদনে ৪ মাস বয়সী জিনান ইসকাফির মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরা হয়, যে দুধের অভাবে অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় মারা যায়। গাজা শহর ও খান ইউনিসের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন যে শিশুরা চিকিৎসা নিচ্ছে, তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশের মধ্যে মাঝারি থেকে গুরুতর অপুষ্টির লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে।

অ্যামনেস্টি জানায়, অনেক চিকিৎসকও এখন বাস্তুহারা এবং নিজেরাই অপুষ্টিতে ভুগছেন। তারা দুর্বল অবস্থায় রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সংস্থাটি অভিযোগ করে, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শুধু ইসরায়েলের গণহত্যা থামাতে ব্যর্থ নয়, বরং তারা এই ধ্বংসযজ্ঞ কার্যত চলতে দিচ্ছে।”

এ পরিস্থিতি বন্ধে অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের জন্য সব ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে হবে; মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করতে হবে; এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।



banner close
banner close