সোমবার

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৭ মাঘ, ১৪৩২

মিসাইল ও ড্রোন হামলায় গর্বিত ইরানিরা: জরিপ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৫৬

শেয়ার

মিসাইল ও ড্রোন হামলায় গর্বিত ইরানিরা: জরিপ
ছবি: সংগৃহীত

১২ দিনের যুদ্ধে ইরান ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম ধ্বংস করে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেন, ‘দেশটির ইহুদিবাদী সত্ত্বা ধ্বংস হয়েছে।’

এদিকে ইসরায়েলে হামলা চালানো নিয়ে অন্তত ৭৭ শতাংশ ইরানি গর্বিত। ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং বা আইআরআইবি-এর গবেষণা বিভাগ পরিচালিত এক জরিপ থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

গত মাসের শেষের দিকে তেহরান এবং অন্য ৩২টি শহরে পরিচালিত এই জরিপে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৪ হাজার ৯৪৩ জন অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ নারী।

ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে, ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী একে ‘সম্পূর্ণ শক্তিশালী’ বা ‘তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হিসাবে দেখছেন। ৬৯ দশমিক ৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতার প্রশংসা করেছেন।

ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ওই যুদ্ধে ইসরায়েলের বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোয়েন্দা ড্রোনগুলিকে সফলভাবে প্রতিহত করে। ইরানের বিভিন্ন স্থানে এক ডজনেরও বেশি হার্মিস ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কমপক্ষে দুটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

১৩ জুন ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। ২৪ জুন ইসরায়েল একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। এই সংঘাতের পর ৪২ দশমিক ১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন যে, তারা ‘শত্রুদের প্রতি তীব্র ক্রোধ ও ক্ষোভ’ অনুভব করছেন।

ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি-আমেরিকান আগ্রাসনের প্রভাব এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তার উপর ইরানের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে, ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন যে এটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা বাড়িয়েছে’। এদিকে, ২১ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, পরিস্থিতি ‘অতীতের মতোই’ রয়ে গেছে।

জরিপের ফলাফল অনুসারে, ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা বর্তমান পরিস্থিতি এবং হুমকির আলোকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করার পক্ষে মত দেন। ইরানি কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসবে না তারা। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে একটি বিশ্বশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

মোট ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, ১২ দিনের যুদ্ধ জাতীয় সংহতি এবং ঐক্যের উপর অত্যন্ত উচ্চ বা উচ্চ প্রভাব ফেলেছে। জরিপ অনুসারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ঘোষিত একতরফা যুদ্ধবিরতির প্রতি ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতির প্রতি খুব কম সংখ্যক ইরানিরই আস্থা রয়েছে।

জরিপে ইরানের পারমাণবিক শিল্প বন্ধ করা এবং এর ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার পশ্চিমা শর্তের তীব্র বিরোধিতাও প্রকাশ পেয়েছে। ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার বিরোধিতা করেছেন। যেখানে ৮৫ দশমিক ২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উপর যেকোনো সীমাবদ্ধতা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র সফল হয়েছে কিনা জানতে চাইলে, ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, হামলাগুলো খুব কম বা কম সফল হয়েছে। যেখানে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ বলেছেন, হামলাগুলো মোটেও সফল হয়নি।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা ইসরায়েলি সরকারের বহুল আলোচিত আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। বুধবার মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনে শহীদ ইরানিদের স্মরণে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও উপস্থিত ছিলেন।

গালিবাফ ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক, অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা স্থাপনাগুলিতে যে ক্ষতি হয়েছে তা তুলে ধরে বলেন, ইরান একটি অপ্রীতিকর আগ্রাসনের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থা ধসিয়ে দিয়েছে ইরান। ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার বলেছেন যে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনার সময় ইসরায়েল এই আক্রমণ চালিয়েছিল এই বিশ্বাসে যে ইরান অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত।’

তিনি বলেন, ‘শত্রু ভেবেছিল ইরানি জাতি নিজেদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ জনগণ দৃঢ় ছিল। কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিন ভূখণ্ড দখল করে থাকা ভুয়া সরকার কখনও এমন আগুন দেখেনি।’

গালিবাফ বলেন, ‘যুদ্ধের প্রথম রাতে, আমরা ইহুদিবাদী সরকারের দিকে ৩৫০টি ড্রোন এবং ১৫০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছি। ইরানের শক্তি ২৪ ঘন্টার মধ্যে এমনভাবে এগিয়ে গিয়েছিল যে ইহুদিবাদী সরকারের প্রতি আমেরিকা এবং ন্যাটোর সমর্থন সত্ত্বেও আমরা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে তাদের প্রতিরক্ষামূলক দুর্গ আয়রন ডোম ধসিয়ে দিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইসরায়েল কোনো যুদ্ধে একা দাড়াতে পারে না।’



banner close
banner close