চলতি বছর ১০ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। এ লক্ষ্যে উভয় দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী—পিট হেগসেথ ও রাজনাথ সিং—সরাসরি সাক্ষাতে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, গত মঙ্গলবার হেগসেথ ও রাজনাথ সিং টেলিফোনে কথা বলেন। এ সময় দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব জোরদার করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান। একই দিন হেগসেথ ওয়াশিংটনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
পেন্টাগনের মুখপাত্র কর্নেল ক্রিস ডেভাইন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বড় অঙ্কের মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি, প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় ও যৌথ উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
হেগসেথের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “ট্রাম্প-মোদি যুগে যে শক্ত ভিত তৈরি হয়েছে, আমরা তা আরও ফলপ্রসূ, যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবভিত্তিকভাবে এগিয়ে নিচ্ছি।” দুই পক্ষ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য আগ্রাসনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্মিলিত প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, উভয় দেশ 'ইন্ডাস-এক্স সামিট' ও 'এএসআইএ' নামের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্মেলন ও শিল্প জোট চালুর বিষয়েও একমত হয়েছে। এতে করে প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন ও উৎপাদনে আরও গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব কেবল অভিন্ন স্বার্থের নয়, বরং এটি সক্ষমতা ও দায়িত্বের সমন্বয়ের প্রতিফলন।” তিনি মনে করেন, এই অংশীদারত্ব কেবল দু’দেশ নয়, গোটা অঞ্চলের কৌশলগত স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল, স্ট্রাইকার সাঁজোয়া যান এবং ছয়টি অতিরিক্ত পি-৮আই সামুদ্রিক টহল বিমান যৌথভাবে কেনা ও উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:








