মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক সিটির ডেমোক্রেটিক মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি ও টেসলা স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্কের মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দুইজনই জন্মসূত্রে বিদেশি, তবে যুক্তরাষ্ট্রে স্বীকৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগ্লস সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে চিঠি দিয়ে মামদানির নাগরিকত্ব নিয়ে তদন্ত দাবি করেন। তার অভিযোগ, মামদানি মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সন্ত্রাসবাদে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং তা গোপন করেছেন। প্রমাণ হিসেবে ওগ্লস উল্লেখ করেন, মামদানি ফ্রি দ্য হোলি ল্যান্ড ফাইভ মাই গাইজ নামে একটি র্যাপ পারফরম্যান্স করেছিলেন।
হোলি ল্যান্ড ফাউন্ডেশন ২০০৮ সালে হামাসকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। মামদানির প্রতি ট্রাম্প বলেন, ‘সে যদি ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট কে বাধা দেয়, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’
জবাবে মামদানি বলেন, তারা কোনো আইন লঙ্ঘন করেনি, শুধুমাত্র তিনি তার প্রতিবেশীদের পক্ষে দাড়িয়েছেন বলেই তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইলন মাস্কের নাগরিকত্ব নিয়েও ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন। সম্প্রতি পাস হওয়া এক বিলের কারণে ইভি করছাড় বন্ধ হওয়ায় মাস্ক এর বিরোধিতা করেন। ট্রাম্প বলেন, ভর্তুকি ছাড়া ইলনকে ব্যবসা বন্ধ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে হবে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিল অত্যন্ত কঠিন ও বিরল ঘটনা। শুধু প্রতারণা, যুদ্ধাপরাধ, রাষ্ট্রদ্রোহ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধেই নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে।
নেভাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল কাগান বলেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর কৌশল মাত্র, আইনি ভিত্তি দুর্বল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে অতীতে রেড স্কেয়ার বা ঠাণ্ডা যুদ্ধকালীন সময়ে অনেক অভিবাসীর নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল। তবে ১৯৬৭ সালের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের পর এই প্রক্রিয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে।
জোহরান মামদানি ও ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তাপ ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনি প্রক্রিয়া কঠিন হওয়ায় এসব হুমকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম।
আরও পড়ুন:








