চলমান উত্তেজনা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের মাঝেও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বন্দিদের তালিকা বিনিময় করেছে ভারত ও পাকিস্তান। ২০০৮ সালের কনসুলার অ্যাক্সেস চুক্তির আওতায় প্রতিবছর দুইবার, ১ জানুয়ারি ও ১ জুলাই—এই তালিকা বিনিময় করে থাকে দেশ দুটি।
মঙ্গলবার (২ জুলাই) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইসলামাবাদে ভারতের হাইকমিশনের এক প্রতিনিধির কাছে ২৪৬ ভারতীয় বন্দির তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৩ জন বেসামরিক বন্দি ও ১৯৩ জন জেলে। অপরদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের কূটনীতিকের কাছে ৪৬৩ পাকিস্তানি বন্দির তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৮২ জন বেসামরিক বন্দি ও ৮১ জন জেলে।
সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যুদ্ধাবস্থার আশঙ্কা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ভারত একতরফাভাবে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে এবং পাকিস্তান হুমকি দেয় ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তি থেকে সরে আসার। এমন সংকটপূর্ণ প্রেক্ষাপটেও কনসুলার অ্যাক্সেস চুক্তি অনুসারে তালিকা বিনিময়কে ইতিবাচক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, সাজা শেষ হওয়া এবং যাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত, এমন বন্দিদের দ্রুত মুক্তি ও দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেসব বন্দির শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বিশেষ কনসুলার অ্যাক্সেস চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া ভারতীয় হেফাজতে থাকা পাকিস্তানি বন্দিদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাকিস্তান সরকার মানবিক বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতীয় কারাগারে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকদের দ্রুত প্রত্যাবর্তনে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
আরও পড়ুন:








