ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যে কুকি জনজাতি অধ্যুষিত চূড়াচাঁদপুর জেলায় গতকাল সোমবার চারজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একটি গাড়িতে তিনজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি মৃতদেহে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া একজন নারীর মৃতদেহ পাওয়া গেছে।
মণিপুর পুলিশ আজ মঙ্গলবার জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরুর পাশাপাশি আততায়ীদের খুঁজে বের করতে দক্ষিণ মণিপুরের ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশের ধারণা, কুকি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে এই খুনোখুনির ঘটনা ঘটেছে।
মণিপুরে প্রায় দুই বছর ধরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায় এবং কুকি-জো আদিবাসীদের মধ্যে সংঘাত চলছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের ঘটনা তার ব্যতিক্রম।
কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের বিরোধী হচ্ছে ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি (ইউ-কেএনএ)। ইউ-কেএনএ সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতিতে যায়নি। তাদের বক্তব্য, কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের বিভিন্ন সংগঠন সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাদের নানাভাবে হেনস্তা করছে, অনেক সময় তাদের সদস্যদের হত্যাও করছে। যারা তাদের হেনস্তা এবং হত্যা করতেন, তাদের অন্যতম ছিলেন থেনখোথাং হাওকিপ। তিনি ও তার দলের লোকজন ইউ-কেএনএর ৩০ জনের বেশি সদস্যকে গত কয়েক বছরে হত্যা করেছেন। এঁদের মধ্যে ইউ-কেএনএর শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন।
ইউ-কেএনএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ কারণে হাওকিপসহ কেএন-এর তিন সদস্যকে সোমবার হত্যা করা হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পুলিশ জানায়, একটি হুন্দাই গাড়িতে করে সোমবার বেলা দুইটার দিকে হাওকিপ ও তার সংগঠনের দুই সদস্য যাচ্ছিলেন। হঠাৎ মংজ্যাং নামের এক গ্রামে তাদের ওপরে গুলি চালানো হয় এবং সম্ভবত ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
তিনজনের দেহ গাড়ির ভেতরেই পাওয়া যায়, নারীর দেহ পাওয়া যায় কিছুটা দূরে। তিনি সম্ভবত কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। যখন গুলি চলছিল, তখন তিনি ওই অঞ্চল দিয়ে অন্যত্র যাচ্ছিলেন, অতর্কিতে তার গায়ে গুলি লাগে।
মণিপুরের দক্ষিণ, মধ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের মতোই কুকি-জো আদিবাসী অধ্যুষিত চূড়াচাঁদপুরে দুই বছরের বেশি সময় ধরে সহিংসতা চলছে। তবে চূড়াচাঁদপুরে সহিংসতার তীব্রতা বেশি। মণিপুরে গত দুই বছরের সংঘর্ষে ২৫০ জনের বেশি মানুষ সহিংসতায় নিহত হয়েছেন। গৃহহীন হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ।
পুলিশ বিবৃতিতে জানায়, দুই কুকি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনার জেরে যাতে চূড়াচাঁদপুরের মতো স্পর্শকাতর জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








