রোববার রাতভর ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদন ও তেল পরিশোধন কারখানাগুলোর ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির কিঞ্জহাল ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে হামলাগুলো চালানো হয় বলে সোমবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
রুশ মন্ত্রণালয় হামলার প্রকৃত সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ না জানালেও, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করেছে—২০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্তত ৪০টি ড্রোন তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে ইউক্রেনে প্রবেশ করে। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তারাও বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
পশ্চিম ইউক্রেনের দ্রোহোবিচ শহরের সামরিক কমান্ডার স্টেফান কুলিনায়াক ফেসবুকে জানান, হামলায় একটি সামরিক কারখানায় আগুন ধরে যায়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি।
উল্লেখ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেনের টানাপোড়েন কয়েক বছরের। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির অন্যতম বিরোধপূর্ণ বিষয় ছিল ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টা। এই উত্তেজনার জের ধরে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন।
চলমান যুদ্ধ ২০২৫ সালে দ্বিতীয় বছরে গড়িয়েছে। এরই মধ্যে রাশিয়া দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিজ্জিয়া—এই চারটি প্রদেশের দখল নিয়েছে, যা ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক পঞ্চমাংশ।
যুদ্ধ থামাতে একাধিকবার আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো সফল হয়নি।
সূত্র: আরটি
আরও পড়ুন:








