ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের সাঙ্গারেড্ডি জেলার পাশামাইলারামে একটি রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত ১২ শ্রমিক নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদ সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ‘সিগাচি কেমিক্যালস’ নামের একটি রাসায়নিক উৎপাদনকারী কারখানায়। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) দুপুরে বিস্ফোরণের পরপরই তিনতলা ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো ভবনটি ধসে পড়ে।
কারখানায় বিস্ফোরণের সময় ৬৬ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে ৮ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আহতদের মধ্যে ৪ জন পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতদের মধ্যে বিহারের অভিষেক কুমার ও ওড়িশার নগর্জিৎ তিওয়ারির পরিচয় পাওয়া গেছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় শ্রমিকদের অনেকে কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়েন। আগুন আশপাশের কারখানাতেও ছড়িয়ে পড়লে পুরো শিল্পাঞ্চলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পাশের কারখানার কর্মীরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এসডিআরএফ), হায়দরাবাদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও ৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার এয়ার ড্রায়ার সিস্টেমে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। এটি কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে ঘটেনি বলে জানিয়েছেন তেলেঙ্গানার শ্রমমন্ত্রী জি বিবেক। তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে কারখানার ম্যানেজারও রয়েছেন। দুর্ঘটনার ফলে কারখানার শ্রমিকদের বেশিরভাগ রেকর্ডপত্র আগুনে পুড়ে গেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তেলেঙ্গানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডামোদর রাজা নারসিমহা ও শ্রমমন্ত্রী জি বিবেক। আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তারা।
এদিকে রাজ্যপাল জিষ্ণু দেববর্মা এবং মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্ত রেড্ডি দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং উদ্ধার তৎপরতায় সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এছাড়া ওই শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একের পর এক শিল্প-কারখানায় এমন দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।
আরও পড়ুন:








