পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ভারতের মাটিতে অবৈধ বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ নিয়ে ‘অনুপ্রবেশে সুবিধা করছে শীতকাল! কাঁটাতার গলে কী ভাবে এ পারে ঢুকে পড়ছেন বাংলাদেশিরা?’- শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
এ সংবাদটিতে দাবি করা হয়েছে, শীতকালের সন্ধ্যায় প্রচণ্ড কুয়াশার কারণে কিছু দেখা না যাওয়ায় কিছু দালাল চক্রের সহায়তায় কাঁটাতারের ফাঁক গলে বাংলাদেশিরা ভারতে অনুপ্রবেশ করছে।
সম্প্রতি কলকাতার একটি হোটেল থেকে সেলিম মাতব্বর নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে পুলিশের গ্রেফতারের বিষয়টি উল্লেখ করে আনন্দবাজার দাবি করে যে, সেলিম বাংলাদেশে বিএনপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন- যিনি ২০২৩ সালে নদিয়া দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছেন।
অথচ, আনন্দবাজার কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার ২০২৩ সালের এক ‘কথিত’ বিএনপি কর্মীর নাম উল্লেখ করলেও চলতি বছরের ৫ আগস্টের পর যে বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে দিনের পর পর বসবাস করছে তা একবারের জন্যও উল্লেখ করেনি।
উপরন্তু, পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতে যে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অবৈধভাবে থাকছেন তারা প্রায় সকলেই হত্যাসহ নানা মামলার আসামি।
হাসিনা সরকারের পতনের পর এক ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক এমপি অপু উকিল, কেন্দ্রীয় নেতা অসীম কুমার উকিলসহ অনেক পলাতক নেতা কলকাতায় আড্ডা দিচ্ছেন।
এ ছাড়া অতি সম্প্রতি অবৈধভাবে ভারতে থাকা ৪ আওয়ামী লীগ কর্মী প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার হয়- যা পশ্চিমবঙ্গের পত্রিকাটি উল্লেখ করেনি।
হত্যা মামলার আসামিসহ ছাত্র-জনতার অভুত্থানে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর অগণিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে তা নিয়ে আনন্দবাজারের বিন্দুমাত্র মাথা ব্যাথা নেই।
পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের প্রেমে মত্ত ভারতের বেশিরভাগ গণমাধ্যমের মতো আনন্দবাজার প্রায় এক বছরেরও আগের একটি ঘটনায় যেখানে বিএনপির নাম আছে তা উল্লেখ করেছে, কিন্তু চোখের সামনে বর্তমানে ঘটতে থাকা অবৈধ হাসিনার দালালদের অনুপ্রবেশের ঘটনা দেখতে পাচ্ছে না।
ভারতের সেবাদাস আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা-কর্মীদের অবৈধভাবে ভারতে থাকার বিষয়টি মানুষের চোখে আড়াল রাখতেই অপ্রাসঙ্গিক একটি বিএনপি সংক্রান্ত ঘটনাকে সামনে এনেছে।
আনন্দবাজার পত্রিকার এই সংবাদটি মূলত বাংলাদেশে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের গণমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান ষড়যন্ত্রের অংশ।
আরও পড়ুন:








