বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান অনুসারে উৎসব মানে ‘আনন্দানুষ্ঠান’। একই অভিধানে ধর্মের সংজ্ঞায় বলা আছে, ‘বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শাস্ত্রনির্দিষ্ট বিধি-বিধান’। তাহলে ধর্মীয় উৎসব বলতে বোঝায়— ‘বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শাস্ত্রনির্দিষ্ট বিধি-বিধানের আলোকে আনন্দানুষ্ঠান’। সংজ্ঞার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ধর্মীয় উৎসবগুলো স্ব স্ব ধর্মের শাস্ত্রের আলোকেই হয়ে থাকে। একেক ধর্মের শাস্ত্র যেহেতু ভিন্ন, সেহেতু একেক ধর্মের উৎসবও ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে উদযাপিত হয়। এটাই স্বাভাবিক। তবে তখনই বিপত্তি বাঁধে, যখন ভিন্ন ধর্মের ভিন্ন উৎসবকে সকল ধর্মের মানুষের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এই যেমন দুর্গাপূজা এলেই অতি-প্রগতিশীল দাবিদার ব্যক্তিরা আওয়াজ তুলতে থাকে— ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। এই বাক্যটি পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের মাসকট ছিল। গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার মুখে এটি প্রায়ই শোনা যেত। ফ্যাসিস্ট সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের মুখে এই বাক্যটি খইয়ের মতো ফুটত। ফ্যাসিস্ট সরকারব্যবস্থা কায়েমের সহযোগী বামসহ আওয়ামী দালালদের মুখেও এই বুলি অহরহ শোনা যেত। কখনো বাঙালি সংস্কৃতির নামে, কখনো ধর্মনিরপেক্ষতার নামে, কখনো বা অসাম্প্রদায়িকতার নামে তারা এই বুলি আওড়াত। কিন্তু আদতে এটি ফেরি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা জোরদার ও দীর্ঘায়িত করা। এই বুলি আওড়ে তারা ভারতের হিন্দুত্ববাদী শক্তিকে খুশি করতে চাইত। তাদের বোঝাতে চাইত যে, স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের হাতেই হিন্দুরা নিরাপদ। দেশের হিন্দুদের বোঝানো হতো— একমাত্র আওয়ামী সরকারই তাদের বন্ধু; বিএনপি বা জামায়াত এলে তাদের সমস্যা হবে। পতিত সরকার বাংলাদেশি হিন্দুদের এসব ভুল বুঝিয়ে ফ্যাসিবাদ পাকাপোক্ত করার কাজে তাদের ও ভারতের দাদাবাবুদের পাশে রাখতে চেয়েছিল। আওয়ামী বয়ানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বাম ও ইসলামবিদ্বেষী তথাকথিত সেক্যুলাররাও এতে সায় দিত।
তাই ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ বাক্যটি বর্তমানে ফ্যাসিবাদের এক রকম প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বুলি আওড়ে এক যুগ ধরে দেশের আলেম-উলামাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়েছে, জেলে পোরা হয়েছে, নির্যাতন চালানো হয়েছে। এবারও দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্যাসিবাদের প্রতীক হওয়া এই বাক্যটি বিভিন্ন মহল থেকে আওড়ানো হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসব সার্বজনীন হয়ে গেছে’। তিনি কেন ফ্যাসিবাদী সরকারের আদলেই দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন, সেটা ভাবার বিষয়। হতে পারে তার আশপাশে থাকা পতিত সরকারের সুবিধাভোগীরা তাকে প্রভাবিত করেছিল, কিংবা তিনিও বুঝে বা না-বুঝে এই বুলি ধারণ করেন। উভয় ক্ষেত্রেই কাজটি সঠিক ছিল না। বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার দুর্গাপূজার শুভেচ্ছায় ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ বাক্যটি প্রয়োগ করেননি। এজন্য তিনি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে তিনি এর বদলে বলেছেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।” এই বাক্যটির উদ্দেশ্য নিয়েও বিচার-বিশ্লেষণ থাকতে পারে, তবে তিনি যে হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ করেননি, সেজন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু বিএনপির অনেক নেতাকর্মী তারেক রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন না। কেউ কেউ ভিন্ন শব্দ প্রয়োগে ইনিয়ে-বিনিয়ে একই কথা বলার চেষ্টা করছেন, যা দুঃখজনক। উদাহরণস্বরূপ, গত ৪ই অক্টোবর চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর একই বুলি আওড়ে বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।’ প্রায় ৯১.০৪ শতাংশ মুসলমানের দেশে মাত্র ৭.৯৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় উৎসবকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার কাজে বিএনপির কেউ কেউ কেন আওয়ামী লীগের ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছেন, তা অবাক করার মতো ব্যাপার। ইসলাম ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো উৎসবকে জোর করে মুসলিমদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিএনপির প্রতি আওয়ামী লীগের মতোই সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আস্থা যে কমে যাবে, বিএনপির এই নেতারা কি তা বোঝেন না?
এবার মূল প্রশ্নে আসি। আসলেই কি শারদীয় দুর্গোৎসব সর্বজনীন হওয়া সম্ভব? কিংবা 'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার' হওয়া সম্ভব? সর্বজনীন মানে হলো— যা সর্বসাধারণের জন্য অনুষ্ঠিত, অর্থাৎ সকলের জন্য প্রযোজ্য বা হিতকর। দুর্গাপূজা কি খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য? দুর্গাপূজা কোনো সর্বজনীন কিংবা সার্বজনীন রাষ্ট্রীয় উৎসব নয়। এটি হিন্দু শাস্ত্রের আলোকে হিন্দুদের দ্বারা আয়োজিত ও উদযাপিত উৎসব। এটি অন্য ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা আয়োজিত কিংবা অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রযোজ্য বা হিতকর হয় কীভাবে? মূল হিন্দুশাস্ত্রের কোথাও দুর্গাপূজাকে সর্বজনীন কিংবা সার্বজনীন উৎসব বলে দাবি করা হয়নি; বরং বেদে মূর্তিপূজার বিপক্ষে শ্লোক আছে। তাহলে কেন বারবার জোর করে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর দুর্গাপূজাকে সর্বজনীন উল্লেখ করে চাপিয়ে দেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করা হয়? দুর্গাপূজাকে সর্বজনীন বলা অন্য ধর্মাবলম্বীদের কটাক্ষ করার শামিল।
এবার আসি— ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ হওয়া সম্ভব কি না সে বিষয়ে। সত্যি বলতে, এটি সব ক্ষেত্রে কখনোই সম্ভব নয়। যদি কোনো উৎসব অন্য কোনো ধর্মের বিধি-বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তবে সেটি কোনোভাবেই সবার উৎসব হতে পারে না। যেমন— হিন্দুধর্মের দুর্গোৎসব কোনোভাবেই খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, ইহুদি কিংবা মুসলমানদের উৎসব হতে পারে না, কারণ তা অন্য ধর্মের বিধি-বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইসলাম ধর্মে মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ। ইসলাম ধর্মের মূল কথাই হলো— আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মা'বুদ নেই, তাঁর সাথে কাউকে শরিক করা যাবে না এবং মূর্তি বানিয়ে পূজা করা যাবে না। পূজা করা হয় এমন কোথাও অংশগ্রহণ করাও নিষিদ্ধ। তাই দুর্গাপূজাসহ যেসব উৎসবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত বা শরিক করা হয়, তা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। মুসলিমদের জন্য সেসব উৎসবে যোগদান করা বা উদযাপন করা নিষিদ্ধ। ইসলামের বিরুদ্ধে যায় এমন উৎসবকে সর্বজনীন ঘোষণা করে মুসলিমদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অন্যায়, অন্যায্য ও পরিকল্পিত অনৈতিক আগ্রাসন। শুধু ইসলাম নয়, দুর্গাপূজাকে সর্বজনীন ঘোষণা করা খ্রিস্টধর্ম, বৌদ্ধধর্ম বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ওপরও অনৈতিক আগ্রাসন, কেননা তাদের ধর্মেও এর কোনো নিয়ম নেই।
আপনি এমন উৎসব কারও ওপর জোর করে চাপিয়ে দিতে পারেন না, যা তার ধর্মের বিরুদ্ধে যায়। সংবিধানে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে যায় এমন উৎসব যখন মুসলিমদের ওপর চাপাতে চান, তখন আসলে আপনি তাদের ধর্মীয় বিধি-বিধান পালনে বাধা দিচ্ছেন, যা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
কেউ প্রশ্ন তুলতেই পারে যে— যদি আসলেই ধর্ম যার যার, উৎসব সবার হয়, তবে কোরবানির ঈদ উৎসব কেন সবার হয় না? কোরবানির ঈদে গরু জবাইয়ে হিন্দুরা কেন শামিল হয় না? কোরবানির ঈদকে কেন সর্বজনীন উৎসব ঘোষণা করা হয় না? মুসলিমদের উৎসব নিয়ে এত বৈষম্য কেন? আপনি যদি বলেন, ‘যেহেতু ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, সেহেতু দুর্গাপূজায় মুসলিমরা অংশগ্রহণ করুক’, তখন মুসলিমরা যদি বলে, ‘যেহেতু ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, সেহেতু হিন্দুরাও কোরবানির ঈদে গরু জবাইয়ে অংশগ্রহণ করুক’— তখন ব্যাপারটা কেমন হবে? দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা নাড়ু-মোয়া যেভাবে হিন্দুদের মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যে বিলি হয়, সেভাবে যদি মুসলিমরা হিন্দুদের মধ্যে গরুর মাংস বিলি করা শুরু করে, তবে কি হিন্দুরা তা মেনে নিতে পারবে? তখন তো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধবে।
২০২৪ সালের ১০ই অক্টোবর চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা কি মনে আছে? সেদিন দুর্গাপূজার এক অনুষ্ঠানে হিন্দু আয়োজকদের দ্বারা আমন্ত্রিত হয়ে ‘ইসলাম’ শব্দ আছে এমন দু-একটি গান গাওয়ার কারণে উত্তপ্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল এবং ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ বলা ব্যক্তিরাই সেদিন যেভাবে তুলকালাম কাণ্ড বাঁধিয়েছিলেন, তাতেই এই স্লোগানটির ফাঁপা দিকটি অনুমিত হয়েছিল। অথচ ছেলেগুলো জোর করে সেখানে যায়নি। পূজা কমিটি তাদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তাতেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে এ রকম একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কীভাবে সর্বজনীন ঘোষণা করা হয়, যেখানে অন্য ধর্মের নাম নেওয়া নিষেধ এবং নিলেই অপরাধী হতে হয়? চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিই তখন প্রমাণ করেছিল যে, দুর্গোৎসবের সর্বজনীনতা আদৌ সম্ভব নয়।
আসল কথা হলো— দেব-দেবীর পূজা ও নাড়ু-মোয়া যেমন মুসলিমদের জন্য বৈধ নয়, তেমনি মুসলিমদের কোরবানির ঈদ উৎসবও হিন্দুদের জন্য প্রযোজ্য নয়। মুসলিমদের দুই ঈদ কিংবা খ্রিস্টানদের বড়দিন যেমন হিন্দুদের জন্য প্রযোজ্য নয়, তেমনি হিন্দুদের কোনো ধর্মীয় উৎসবও অন্যদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
মূলত, ধর্মভেদে ধর্মীয় উৎসবগুলোও ভিন্ন হয়। তাই ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ বুলি আওড়ে এক ধর্মাবলম্বীদের উৎসব অন্যের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এবং চরমপন্থী আচার-আচরণ ও চাপা ক্ষোভ বৃদ্ধি পায়। তাই অযৌক্তিক প্রচেষ্টা না করে, যার যার উৎসব নিজ ধর্মের আলোকে নিজ নিজ গণ্ডিতে পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত। এভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা সম্ভব। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মানে অন্য ধর্মের উৎসবে যোগ দেওয়া নয়, বরং অন্য ধর্মের উৎসব পালনে অহেতুক বাধা সৃষ্টি না করা।
উল্লেখ্য, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ বুলি আওড়ানো রাজনৈতিক নেতারাও কিন্তু কখনোই মেনে নেবেন না যে— ‘রাজনৈতিক দল যার যার, রাজনৈতিক দলের উৎসবও সবার’ কিংবা কোনো রাষ্ট্রও মেনে নেবে না যে— ‘রাষ্ট্র যার যার, রাষ্ট্রীয় উৎসব সবার’। কোনো রাজনৈতিক দল অন্য দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কেক কাটবে না বা অংশগ্রহণ করবে না, কারণ তাদের দল ও মতাদর্শ ভিন্ন। তেমনি বাংলাদেশের বিজয় দিবসে পাকিস্তানিরা বা পাকিস্তানের বিজয় দিবসে ভারতীয়রা স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করবে না। এ থেকেই বোঝা যায়, সকল উৎসব কখনোই সর্বজনীন হতে পারে না। একইভাবে কোনো ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উৎসবও সর্বজনীনভাবে পালিত হতে পারে না।
এখন কেউ বলতে পারে, এই কথার অন্য অর্থ হলো— ধর্মীয় উৎসবে সবাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ছুটি ভোগ করে, বেড়াতে যায়, নতুন জামা কেনে, ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়; এভাবে তারাও উৎসবে শামিল হয়। প্রকৃতপক্ষে, এগুলো উৎসবে শামিল হওয়া বোঝায় না। উৎসবে শামিল হতে গেলে উৎসব পালনে সমর্থন ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাকতে হয়। মুসলমান, খ্রিস্টান বা বৌদ্ধরা পূজার ছুটি পাওয়ায় বা বেড়াতে যাওয়ায় কিংবা ব্যবসায়ীরা জামাকাপড় বিক্রি করায় এটা প্রমাণিত হয় না যে তারা পূজা উদযাপন বা সমর্থন করছে। তারা কেবল তাদের দৈনন্দিন কাজ ও ব্যবসা করছে। বিক্রয় বৃদ্ধি পেলেও ধর্মীয় দিক থেকে তাদের কোনো সমর্থন বা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাকে না। অন্য ধর্মোৎসব ও ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
অতএব, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ নামক ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্বের চিহ্ন বহনকারী বাক্যটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্ম যেমন ভিন্ন, উৎসবও তেমন ভিন্ন। কোনো উৎসব ধর্মের বিরুদ্ধে গেলে সেই উৎসব বর্জন করার অধিকার সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের রয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতির নামে, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে কিংবা অসাম্প্রদায়িকতার নামে কোনো উৎসবকে সর্বজনীন ঘোষণা করে অন্য ধর্মের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেয়ার অধিকার কারও নেই।
লেখক: মাহতাব মুহাম্মদ, কলামিস্ট, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
Email: [email protected]
আরও পড়ুন:







