বৃহস্পতিবার

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

ভাসমান মানুষকে মানবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে হবে

জাহাঙ্গির আলম বিপ্লব

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৫

আপডেট: ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩৩

শেয়ার

ভাসমান মানুষকে মানবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে হবে
ছবি; বাংলা এডিশন

উন্নয়নে ভাসছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বাড়ছে ভাসমান মানুষ। প্রতিদিন শহরে ভিক্ষুকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে মানে আরো বাড়ছে মানুষের চাপ। যে সব মানুষের কোন কোন পরিচয় নেই, খোদার জমিনে নিদ্দিষ্ট কোন ঠিকানা নেই, রাতে ঘুমানোর ঘর নেই। তাদের পরিচয় একটা তারা ভাসমান। ফুটপাত, দোকানের বারান্দা, গাছের নীচ, রেল স্টেশন, জেটিঘাট, খোলা ওয়াগন, পরিত্যাক্ত ভবন, বেড়িবাঁধ, উঁচু রাস্তা, মাজারের সামনে অথবা পাহাড়ের নীচে ভাসমান মানুষেরা রাতে তারা কোথাও গা এলিয়ে, মাটিতে লুটিয়ে একটু ঘুমিয়ে নেয়। মশা –মাছির উৎপাত থেকে রেহাই পেতে ভাসমান মানুষগুলো মাথা সহ সারা শরীর ঢেকে ঘুমায়। পথচারিরা হয়তো ভাবে পুরানো, ময়লায় কাঁথা, কম্বল, চাদর দিয়ে লতা পাতার মতো শরীর ঢেকে এখানে যারা ঘুমায় তারা জঙ্গলের প্রাণী। এদের মধ্যে অনেক অপরিণত বয়সের শিশুও আছে। দিনে হাজির হয় রেস্টুরেন্ট, দোকান পাট, সব্জি বাজার, মাছের বাজার, ইত্যাদিতে কাজ করে। ঠেলাগাড়ী, রিক্সা চালায়, বস্তা টানে অথবা কুলির কাজ করে। নারীও বয়স্করা ভিক্ষা করে, মানুষের সামনে হাত পাতে সাহায্যের জন্য।

প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেয় যত্রতত্র খোলা কোন স্হানে। তাদের অনুভূতি আছে, ভালবাসা আছে,আছে প্রেম,কাম, দ্রোহ। তারা সভ্য মানুষের শহরে বাস করেও দুর্বিষহ অমানবিক জীবনযাপনে করে।

কে জানে, সারা দেশে প্রকৃতপক্ষে কত ভাসমান মানুষ আছে আমাদের দেশে। সারাদেশে ভাসমান মানুষ প্রকৃতপক্ষে কত তার একটা সঠিক হিসাব রাষ্ট্র হিসাবে জাতির কাছে থাকা দরকার। রাষ্ট্রের কর্তব্য হচ্ছে, ভাসমান মানুষের জন্য আবাসস্থল নির্মাণ করে এদের মূল জনস্রোতে ফিরিয়ে এনে বিভিন্ন কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশীদার করা। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই শুধু নয় রাষ্টের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের বিষয়টি বিবেচনা করেই ভাসমানদের পুনর্বাসন করতে হবে।