রবিবার

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

পাঁচ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অবনতি: দায় কার

মেশকাত সাদিক, লেখক: কবি ও রাজনীতি বিশ্লেষক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৭

আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৭

শেয়ার

পাঁচ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অবনতি: দায় কার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারত প্রতিবেশী দেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, নদী, বাণিজ্য ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ দুই দেশকে গভীরভাবে যুক্ত করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের কৌশলী ভূমিকা এবং স্বাধীনতার পর থেকে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়েছে। ভারত বাংলাদেশকে শোষণ আধিপত্য বিস্তার করতে পারলে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। আর তা না পারলে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যে বড় পরিবর্তন ঘটে, তার প্রভাব বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও পড়ে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি, অবিশ্বাস ও দূরত্ব তৈরি হয়।

৫ আগস্টের পর ভারতের সামনে যেমন নতুন বাংলাদেশের বাস্তবতা তৈরি হয়, তেমনি বাংলাদেশের সামনেও নতুন করে ভারতকে মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দেয়। আগের সরকারের সময়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক ছিল তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ। কিন্তু সেই সম্পর্কের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সরকারের ঘনিষ্ঠতা এত বেশি যুক্ত হয়ে গিয়েছিল যে সরকার পরিবর্তনের পর সম্পর্কের ওপরও তার প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, হাসিনা ওয়াজেদ সরকারের সঙ্গে ভারতের অবৈধ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে অসন্তোষ তৈরি করে।

৫ আগস্টের পর সম্পর্কের পরিবর্তন

৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যান। এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ১৭ বছর ভারতের ক্ষমতায় থাকেন ও ভারতের নির্দেশে ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এর পরিকল্পনায় বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করতে থাকে। ফলে খুনী হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিষয়টি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ভারতও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে নিরাপত্তা, সীমান্ত, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে শুরু করে।

ভারত অবশ্য নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিল। ৮ আগস্ট ২০২৪ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানান এবং পরে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগও হয়। অর্থাৎ সম্পর্ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। কিন্তু রাজনৈতিক আস্থার জায়গায় একটি সংকট তৈরি হয়।

এই সংকটের একটি বড় কারণ ছিল দুই দেশের জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া ধারণাগত দূরত্ব। বস্তুনিষ্ঠ সঙ্গত কারণে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে এই বিশ্বাস জন্মে যে, ভারত দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে নানাবিধ অপরাধ কর্ম করতে উদ্বুদ্ধ করে ও সমর্থন যোগায়।

ভারতের দিক থেকেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, তথাকথিত সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি ও উগ্রবাদ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে দুই দেশের সরকারি সম্পর্কের পাশাপাশি জনমনের সম্পর্কেও কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দেয়।

আস্থার সংকট

বর্তমান সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আস্থার অভাব। কোনো দুই দেশের সম্পর্ক শুধু চুক্তি বা কূটনৈতিক বৈঠকের ওপর টিকে থাকে না; এর ভিত্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস। বাংলাদেশ মনে করে, ভারতকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সম্মান করতে হবে। অন্যদিকে ভারত চায় বাংলাদেশে এমন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ থাকুক, যেখানে ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এই আস্থার সংকটকে আরও জটিল করেছে। বিশেষ করে ভারতের মাটি থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকার কাছে অস্বস্তিকর। ২০২৬ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ভারত থেকে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দেয়। বাংলাদেশ এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের বিষয়ে ভারতের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছে।

এখানে দুই দেশেরই বাস্তববাদী হওয়া প্রয়োজন। ভারতকে বুঝতে হবে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আবার বাংলাদেশকেও বুঝতে হবে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে কেবল অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণ দিয়ে বিচার করলে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।

সীমান্ত সমস্যা

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো সীমান্ত। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্তে চোরাচালান, মাদক, মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি সীমান্তে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়।

সীমান্তে একজন বাংলাদেশির বা ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি সীমান্তবর্তী মানুষের মনে ভয় ও ক্ষোভ তৈরি করে। দুই দেশ অতীতে সীমান্তে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে একাধিকবার অঙ্গীকার করেছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ টহল, তথ্য বিনিময় এবং অপরাধ দমনে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও হয়েছে।

এখন প্রয়োজন কথার চেয়ে বাস্তব ফল। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়াতে হবে। কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্ত করতে হবে এবং অপরাধী যেই দেশেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সীমান্তবাসীর জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

পানি বণ্টনের প্রশ্ন

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে পুরোনো ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো অভিন্ন নদীর পানি। দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ১৯৯৬ সালে চুক্তি হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি এবং তিস্তার পানি বণ্টন এখনো অমীমাংসিত।

তিস্তা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট যেমন কৃষিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি বন্যার সমস্যা তৈরি করতে পারে। ২০২৪ সালেও দুই দেশ তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করেছে।

শুধু গংগা-তিস্তা নয়, সব অভিন্ন নদীর পানি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন ও নদীর নাব্যতা নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক

রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। দুই দেশের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য হয়। ভারত বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী বাজার এবং বাংলাদেশও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আগের বছরগুলোতে দুই দেশ রেল, সড়ক, নৌপথ ও বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগও সম্প্রসারিত হয়েছিল।

তবে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা, অশুল্ক বাধা, পণ্য প্রবেশের জটিলতা এবং বিভিন্ন সময়ে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশ সহজ নয়। এই দায় ভারতের। তাদের সর্বগ্রাসী মনোভাব‌ই এর জন্য দায়ী।

জনগণের সম্পর্ক

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু সরকার-সরকার সম্পর্ক নয়। এটি জনগণের সম্পর্কও। দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভাষা, সাহিত্য, গান, চলচ্চিত্র, শিক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে।

ভারতে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য যায়। একইভাবে ভারতীয় পর্যটক ও ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশে আসেন। কিন্তু রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় ভিসা, যাতায়াত ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগে বাধা তৈরি হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে। ভারত‌ই প্রথম ভিসা দেওয়া বন্ধ করে। এতে ভারতের পর্যটন ও চিকিৎসা খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উত্তরণের পথ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দুই দেশকে আবেগের পরিবর্তে বাস্তব স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে।

প্রথমত, ভারতকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সম্মান করতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক হিসেবে দেখলে চলবে না। ভারতের নিজের সরকারি অবস্থানেও বলা হয়েছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জনগণকেন্দ্রিক এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও দুই দেশের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশকেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে দলীয় রাজনীতির বাইরে নিয়ে যেতে হবে। ভারত একটি বড় প্রতিবেশী এবং অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব মানেই কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন—এমন ধারণা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করলেই বাংলাদেশের সব সমস্যার সমাধান হবে—এমন ধারণাও বাস্তবসম্মত নয়।

তৃতীয়ত, অমীমাংসিত সমস্যাগুলো নিয়ে নিয়মিত সংলাপ প্রয়োজন। তিস্তা, সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য বৈষম্য, ভিসা, পানি, নদী ব্যবস্থাপনা ও প্রত্যর্পণের মতো বিষয়গুলো একসঙ্গে সমাধান করার চেষ্টা না করে আলাদা আলাদা আলোচনার মাধ্যমে এগোনো যেতে পারে।

চতুর্থত, দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়া দরকার। সেখানে মূলনীতি হবে—পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং একে অপরের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া।

পঞ্চমত, সম্পর্কের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা দরকার। দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভুল তথ্য, গুজব ও বিদ্বেষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি বাড়ানো জরুরি।

৫ আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি মোড় পরিবর্তনের ঘটনা। এর পর দুই দেশের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এও অস্বীকার করবার জো নেই যে, সামগ্রিক সংকটের জন্য ভারত এককভাবে দায়ী। কিন্তু এই দূরত্ব স্থায়ী হওয়ার কোনো কারণও নেই। কারণ দুই দেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। একই নদীর পানি ভাগ করতে হয়, একই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়, বাণিজ্য করতে হয় এবং সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করতে হয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া দরকার, কিন্তু সেই বন্ধুত্ব হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। বড় দেশ হিসেবে ভারতের দায়িত্ব বেশি—ছোট প্রতিবেশীর উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তার সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে সম্মান করা। একইভাবে বাংলাদেশেরও দায়িত্ব হলো আবেগের বদলে জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে ভারতের সঙ্গে বাস্তববাদী সম্পর্ক বজায় রাখা।

বর্তমান সংকট তাই সম্পর্ক ছিন্ন করার সময় নয়; বরং সম্পর্ককে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর সুযোগ। পুরোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বাদ দিয়ে যদি দুই দেশ নতুন করে বসে, তাহলে তিস্তা থেকে বাণিজ্য, সীমান্ত থেকে যোগাযোগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধীরে ধীরে অগ্রগতি সম্ভব।

বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব প্রয়োজন, কিন্তু সেই বন্ধুত্ব যেন কোনো পক্ষের ওপর নির্ভরশীল না হয়। সরকার পরিবর্তন হবে, রাজনৈতিক দল পরিবর্তন হবে, নেতৃত্ব পরিবর্তন হবে; কিন্তু প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারত পাশাপাশি থাকবে। তাই সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত ব্যক্তি বা দলের ওপর নয়—দুই দেশের জনগণের স্বার্থ, মর্যাদা, সমতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর। সেখানেই পাঁচ আগস্ট-পরবর্তী দূরত্ব পেরিয়ে নতুন সম্পর্কের সম্ভাবনা।

মেশকাত সাদিক

লেখক: কবি ও রাজনীতি বিশ্লেষক