সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে রাখঢাক করার কিছু নেই। ভারতের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ভাটা পড়ার পেছনে ভারতের সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা, আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্য ও কার্যকলাপ, সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশ ইনের ঘটনা, হাদি হত্যায় জড়িতদের ফেরত না দেয়া এবং পানিবণ্টন সংক্রান্ত জটিলতাগুলো মূলত দায়ী। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ থেকে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিতাড়িত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান এবং বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। প্রতিবেশী সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতীয় হস্তক্ষেপ ও সীমান্ত হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের মনে গভীর ক্ষোভ রয়েছে, যা ভারতবিরোধী জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত ওয়াশিংটনভিত্তিক পিউ রিসার্চ সেন্টারের ৩৬টি দেশের ওপর পরিচালিত সর্বশেষ জরিপ অনুসারে, বাংলাদেশে পূর্বের তুলনায় ভারতবিরোধী মনোভাব উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ভারতকে অপছন্দ করে এমন মনোভাবের গড় হার ৫৫ শতাংশ। এদিকে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ভারতকে অপছন্দ করার হার বেড়েছে এমন ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে। এর জন্য দায়ী মাত্র এক মাসে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ভারতের সুরক্ষা দেয়া এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিজেপির নেতা-কর্মী কর্তৃক বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখলের হুমকি দেয়াসহ বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক বক্তব্য ও কার্যক্রম। প্রশ্ন হলো, ভারত কি তার আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি থেকে কখনো সরে আসবে? উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের 'অখণ্ড ভারতনীতির' কথা বিবেচনা করলে উত্তরটি নেতিবাচকই আসে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে চাণক্যনীতির গভীর প্রভাব রয়েছে। চাণক্যনীতি অনুসারে, প্রতিটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রই শত্রু। ফলে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যতই বন্ধুরাষ্ট্রের কথা বলুক, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারত বাংলাদেশকে অভ্যন্তরীণভাবে একটি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবেই বিবেচনা করে বলে প্রতীয়মান হয়। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির অন্যান্য নেতা-কর্মীসহ উগ্র হিন্দুত্ববাদী ধর্মগুরুদের বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্যেই তার প্রমাণ মেলে।
সম্প্রতি ভারতের বিতর্কিত ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী ধর্মগুরু রামদেব ভারতীয়দের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে। এ রকম উসকানিমূলক কথা-বার্তা হরহামেশাই বিজেপির নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে শুনতে পাওয়া যায়। ফলে বাংলাদেশকে যে তারা শত্রুভাবাপন্ন মনে করে, এটা অস্বীকার করার জো নেই। চাণক্যনীতিতে শত্রুরাষ্ট্রকে বশীভূত করার কয়েকটি ধাপ উল্লেখ রয়েছে— প্রথমে আলোচনা, প্রলোভন ও সমঝোতার চেষ্টা; এরপর উপহার বা অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা; তাতেও কাজ না হলে শত্রুরাজ্যের রাজপরিবার, প্রশাসন বা জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা (যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল); আর এই তিনটি ব্যর্থ হলে সর্বশেষ পথ হিসেবে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা। এছাড়া 'তূষ্ণীম যুদ্ধ' বা ছদ্মযুদ্ধসহ বহু কূটকৌশলের কথা চাণক্যনীতিতে বলা হয়েছে, যেখানে নৈতিকতার চেয়ে ক্ষমতা অর্জন ও সাম্রাজ্যবাদী চেতনা বাস্তবায়নকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, দেশটি সম্ভবত চাণক্যনীতির আলোকেই নৈতিকতার চেয়ে উগ্র আধিপত্যবাদী নীতিকে প্রাধান্য দেয়। ফলে এটা বলাই যায়, বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার ও নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা তাদের পররাষ্ট্রনীতিরই অংশ। স্বৈরাচারী হাসিনার আমলে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যাবতীয় কৌশল তারা প্রয়োগ করেছিল এবং দেশকে একপ্রকার ভারতের ওপর নির্ভরশীল করে ফেলার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছিল। সকল ক্ষেত্রে ভারতের এমন একচেটিয়া প্রভাব দেশের সাধারণ মানুষ সহজভাবে মেনে নেয়নি। ফলে হাসিনার ওপর পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয় এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে, যার জন্য একটি স্বাধীন ও সুদূরপ্রসারী কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করা জরুরি। এমনই এক সময়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যা ইতোমধ্যে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হবে কিনা কিংবা যুক্ত হলে কী কী সুবিধা পাবে এবং এর পেছনে কোনো ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে কিনা।
বাংলাদেশ এখনো পর্যন্ত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেবার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি কাঠামোগত দিক থেকে পুরোটা না হলেও, অনেকটা ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদের আদলে গঠিত—অর্থাৎ জোটভুক্ত তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এছাড়া চুক্তিতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া এবং সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। তবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন যে, এটি একটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং এতে ইরান বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। বাস্তবতা হলো, এই চুক্তির গোড়াপত্তন হয়েছে এমন এক সময় যখন সৌদি আরব বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি—যেমন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা, হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার আঞ্চলিক প্রভাব। একই সাথে তুরস্ক তার উন্নত ড্রোন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধি করতে চায়, আর পাকিস্তান সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের প্রধান সামরিক অংশীদার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায়। তিনটি দেশের কৌশলগত লক্ষ্য ভিন্ন হলেও মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট—ওয়াশিংটনের ওপর একচেটিয়া নিরাপত্তা-নির্ভরতা কমিয়ে একটি বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা। এখন মূল প্রশ্ন হলো, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হলে বাংলাদেশের লাভ কী?
এই প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই আসে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত সুবিধার বিষয়টি। তুরস্ক বর্তমানে ড্রোন, এয়ার ডিফেন্স এবং নৌ-প্রযুক্তিতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই জোটের অংশ হলে বাংলাদেশ সহজেই উন্নত প্রযুক্তি স্থানান্তর ও আধুনিক অস্ত্র ক্রয়ের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা প্রকল্পে সৌদি অর্থায়নের (Defense Funding) দরজা খুলে যেতে পারে, যা বাংলাদেশের সামরিক বাজেট ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এর বাইরে যৌথ সামরিক মহড়া ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের সুযোগ তো থাকছেই। তবে সব সুবিধা ছাপিয়ে বাংলাদেশ যে বড় বিষয়টি পাবে তা হলো—একটি শক্তিশালী যৌথ নিরাপত্তা বলয়। 'একজনের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ'—ন্যাটোর নীতির আদলে গঠিত এই কাঠামো ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত কৌশলগত রক্ষাকবচ হতে পারে। যেখানে বিজেপির উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বাংলাদেশ দখলের হুমকি দিচ্ছে বা সামরিক হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হলে ভারতের অতিরিক্ত লম্ফঝম্ফ ও চাপ সৃষ্টি করার মানসিকতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। কারণ তখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া মানে হবে তুরস্ক ও সৌদি আরবের মুখোমুখি হওয়া, যা ভারতকে তীব্র কৌশলগত চাপে ফেলবে।
ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারত বাংলাদেশকে সমীহ করতে বাধ্য হবে এবং ঢাকার জন্য দিল্লির সাথে দরকষাকষির একটি নতুন কৌশলগত ভারসাম্য তৈরি হবে। তাছাড়া চীন ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সাথে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখে। ফলে বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হলে বেইজিংয়ের সাথে প্রতিরক্ষা বিষয়ে সমন্বয় সহজ হবে। অন্যদিকে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক এই জোটে থাকায় পশ্চিমা বিশ্ব সরাসরি এর বিরোধিতা করার সম্ভাবনা কম, যদিও নতুন সামরিক অক্ষের কারণে তারা নিশ্চিতভাবেই জোটের কার্যক্রমকে কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখবে। এই জোটে পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতি ভারতের আরেকটি দুশ্চিন্তার কারণ। পাশাপাশি, বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের পরিবর্তন ভারতকে ভাবিয়ে তুলেছে, যা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্যে স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহের দিকে নজর রাখছে দিল্লি। তার ভাষ্যে, চুক্তিটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা তারা খতিয়ে দেখছেন।
মক্কা চুক্তির সাথে অর্থনৈতিক সুরক্ষার বিষয়টিও জড়িত। মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে সৌদি আরবে বাংলাদেশের একটি বিশাল শ্রমবাজার রয়েছে। শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সের ধারা অব্যাহত রাখতে রিয়াদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করা ঢাকার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে। পাশাপাশি ওআইসিভুক্ত তিনটি প্রভাবশালী দেশের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
তবে যেকোনো বড় চুক্তির সাথেই কিছু ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি থাকে, যা বাংলাদেশকে সতর্কতার সাথে মূল্যায়ন করতে হবে। প্রথমত, এই চুক্তির বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলতে গেলে, সম্প্রতি হুতি হামলার পরও সৌদি আরবের সুরক্ষায় তুর্কি বা পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের দৃশ্যমান কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি; যার ফলে অনেকে এটিকে কেবল কাগজের প্রতিশ্রুতি মনে করছেন। দ্বিতীয়ত, মক্কা চুক্তিটি আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে গঠিত হওয়ায় সৌদি বাজারে চীনা প্রযুক্তি ও অস্ত্রের প্রবেশ সহজ হবে। বাংলাদেশ যদি এই জোটে শামিল হয়, তবে তাকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের ত্রিমুখী স্বার্থের দ্বন্দ্বে পড়ার ঝুঁকি নিতে হতে পারে, যা ঢাকার প্রচলিত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তৃতীয়ত, ভূরাজনৈতিক জটিল সমীকরণের মধ্যে পড়ে বাংলাদেশ চুক্তিবদ্ধ বাকি দেশগুলোর ভবিষ্যৎ কৌশলগত যুদ্ধের অংশীদার হয়ে যেতে পারে এবং এক্ষেত্রে সামরিক অংশগ্রহণে জড়িয়ে যাবার ব্যাপারটিও থাকে।
তাছাড়া, এই চুক্তির কারণে ইরানের সাথে সম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন তৈরি হবে কিনা তাও ভেবে দেখা দরকার। যদিও ইরান এখনো পর্যন্ত এই চুক্তি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নয় এবং ইরানকেও জোটে যোগ দেবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা আল-মায়াদিন জানিয়েছে; তবুও চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইরানকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, এটি তাদের বিরুদ্ধে কোনো জোট নয়, বরং একটি নিজস্ব কৌশলগত সুরক্ষাকবচ মাত্র। আরেকটি কথা না বললেই নয়, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদান করা মানে এই নয় যে, বাংলাদেশ সব সুবিধা সরল সমীকরণে পেয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-সৌদি সম্পর্ক, ইয়েমেন সংকট, ভারত-পাকিস্তান টানাপোড়েন, হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, তুরস্ক-ইসরায়েলের দ্বান্দ্বিক অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করাসহ বহুমুখী সমীকরণের দিকে লক্ষ রেখে বাংলাদেশকে সতর্কতার সাথে এগোতে হবে। তাই, সব হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
লেখক: কলামিস্ট, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ই-মেইল: [email protected]
আরও পড়ুন:

.jpg)





