শুক্রবার

৫ জুন, ২০২৬ ২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

‛অখণ্ড ভারত‘ নয়- খণ্ডিত ভারতই অনিবার্য পরিণতি

মো. রেযাউল করিম

প্রকাশিত: ৫ জুন, ২০২৬ ১৫:০৭

আপডেট: ৫ জুন, ২০২৬ ১৫:০৮

শেয়ার

‛অখণ্ড ভারত‘ নয়- খণ্ডিত ভারতই অনিবার্য পরিণতি
মো. রেযাউল করিম

‛অখণ্ড ভারত’ তথা সম্প্রসারিত হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ধর্মীয় উগ্রবাদী মোদী-অমিত শাহদের কখনো পূরণ হবে না। বাংলাদেশ নয়, বরং ভারতের নিজস্ব অখণ্ডতাই আজ চরম হুমকির মুখে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বর্তমান জনমিতিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে পৃথক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

ভারতের খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ মিজোরাম (৮৭.১৬%), নাগাল্যান্ড (৮৭.৯৩%) ও মণিপুরের (৪১.২৯%) বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে যে অস্থিরতা ও বিচ্ছিন্নতাবোধ দানা বাঁধছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। পূর্ব তিমুর বা দক্ষিণ সুদানের মতো ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক মডেলের আদলে এখানেও একটি নতুন পাহাড়ি রাষ্ট্রের আবির্ভাব প্রায় অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ডেমোগ্রাফিক বা জনমিতিক কাঠামো ঝড়ের গতিতে পাল্টে যাচ্ছে, কিংবা বলা ভালো—সুপরিকল্পিতভাবে পাল্টানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলো উন্নয়নের আবরণে সেখানকার অভাবী ও অবহেলিত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে গেছে। নানান সুযোগ-সুবিধা ও সেবার মাধ্যমে তারা এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর গড়ে ৮০ থেকে ৮৭ শতাংশকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে রূপান্তরিত করেছে। মিশনারি সংস্থাগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টায় তাদের জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক পরিচিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। যেভাবে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া চলছে, তাতে আগামী এক বা দেড় দশকের মধ্যে এই হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। আর তখনই দক্ষিণ সুদান মডেলের আদলে একটি পৃথক খ্রিস্টান রাষ্ট্রের দাবি জোরালো হবে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বান্দরবান অঞ্চলও এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে; এখানকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকেও ঠিক একইভাবে নানান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে কনভার্ট করার কাজ চলছে।

তবে, আমি এই পরিবর্তনের মধ্যে মৌলিক দোষের কিছু দেখি না। কিন্তু আমার আক্ষেপ আমাদের নিজেদের আলেম সমাজ নিয়ে। আমাদের মুসলমানরা, বিশেষ করে বাংলাদেশের আলেম সমাজের একটি বড় অংশ উম্মাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে কামড়া-কামড়ি, দালালি আর আখের গোছানোর ক্ষুদ্র সংকীর্ণতায় এতোটাই ব্যস্ত যে, মুসলিম জনসংখ্যা সম্প্রসারণে তাদের কোনো মনোযোগই নেই!

কিন্তু আগ্রাসী ভারতের জন্য এই পুরো পরিস্থিতি হবে এক ঐতিহাসিক ও চরম শিক্ষা। যে দেশটি তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে কাউকেই শান্তিতে থাকতে দিতে চায় না, সেই দেশটির জন্য এটিই হবে তাদের কর্মফল। অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন তাদের জন্য অখণ্ডই থেকে যাবে বলে আমার ধারণা।

লেখক পরিচিতি:

মো. রেযাউল করিম

গবেষক- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (২০০৫-২১)

ইমেইল: [email protected]



banner close
banner close