যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশটি দিন ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক মুফাসসির সূরা ফজরের আয়াত “وَالْفَجْرِ وَلَيَالٍ عَشْرٍ” (ওয়া লায়ালিন আশর) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন—এখানে যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ রাতের কথাই বোঝানো হয়েছে।
এই দিনগুলোতে বেশি বেশি নেক আমল করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন—জিকির-আজকার, তাহাজ্জুদ, নফল ইবাদত এবং রোজা রাখা।
নেক আমলের গুরুত্ব —
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “এই দশ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।”
সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন:
“ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের চেয়েও?”
তিনি বললেন:
“হ্যাঁ, তবে যদি কেউ জান-মাল নিয়ে বের হয়ে শহীদ হয়ে যায়—তা আলাদা।”
(তিরমিজি শরিফ)
যিলহজ্জের রোজার ফজিলত :
যিলহজ্জের প্রথম দিনগুলোতে রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
ক) এই দিনগুলোর প্রতিটি রোজা অত্যন্ত সওয়াবপূর্ণ
খ) সামর্থ্য অনুযায়ী রোজা রাখা মুস্তাহাব
গ) প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা উত্তম, তবে বাধ্যতামূলক নয়
ঘ) ১০ম দিন (ঈদুল আযহা) রোজা রাখা জায়েজ নয়
৯ই যিলহজ্জ (ইয়াওমে আরাফা) এর বিশেষ ফজিলত :
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“আরাফার দিনের রোজা রাখলে আমি আশা করি আল্লাহ তা’আলা এক বছর আগের ও এক বছর পরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।”
(তিরমিজি শরিফ)
তাই ৯ই যিলহজ্জের রোজা বিশেষভাবে গুরুত্বের সাথে রাখা উচিত।
রাতের ইবাদতের ফজিলত :
হাদিসে এসেছে —
“যিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের ইবাদত আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। এই দিনগুলোর প্রতিটি রোজা এক বছরের রোজার সমান, আর প্রতিটি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সমান।”
(তিরমিজি শরিফ)
মোটকথা, যিলহজ্জের প্রথম দশ দিন—বিশেষত ৯ই যিলহজ্জ—ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই দিনগুলোতে বেশি বেশি রোজা, জিকির, দোয়া ও রাতের ইবাদতে মনোযোগ দেয়া উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই বরকতময় দিনগুলোর পূর্ণ ফজিলত অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আরও পড়ুন:








