শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশ—তিন দেশেই এক অভূতপূর্ব সময়ের সাক্ষী হয়েছে মানুষ।
জেন-জি—এই নতুন প্রজন্ম বুক চিতিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, রাস্তায় নেমেছে, রক্ত দিয়েছে, আন্দোলন করেছে এবং শেষ পর্যন্ত সরকার পরিবর্তন করেছে। এরপর তিন দেশেই জাতীয় নির্বাচন হয়েছে; কিন্তু ফলাফল একেবারেই ভিন্ন!
শ্রীলঙ্কায় জেন-জি সমর্থিত শক্তি ক্ষমতায় এসে অল্প সময়ের মধ্যেই অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। নেপালে ৩৫ বছরের তরুণ বালেন্দ্র শাহ—এক ‘কিং কোবরা’র মতো নির্ভীক, দৃঢ় ও সিদ্ধান্তপ্রবণ নেতৃত্ব দিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন—সাহস, সততা ও দৃঢ় নেতৃত্ব থাকলে বয়স কোনো বাধা নয়; বরং একটি জাতিকে জাগিয়ে তোলার শক্তি হয়ে ওঠে।
কিন্তু বাংলাদেশে কী ঘটলো? ৩৬ জুলাইয়ের সেই ঐতিহাসিক বিপ্লবে ছাত্র-জনতা বুক চিতিয়ে লড়লো, জীবন দিলো, স্বপ্ন দেখলো—একটি ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্রের। কিন্তু সেই স্বপ্নের পরিণতি কী হলো?
১৮ কোটি মানুষের স্পষ্ট, ভূমিধ্বস ম্যান্ডেট—একটি সংগবদ্ধ দেশি-বিদেশি চক্রের ষড়যন্ত্রে ছিনতাই হয়ে গেল! জনগণের ভোট, জনগণের আশা—সবকিছু উপেক্ষা করে ক্ষমতায় বসানো হলো এক দুর্বল, অকার্যকর, ‘পুতুল’ সরকার—যাকে অনেকে আজ ‘ধোরাসাপ’-এর সাথে তুলনা করছে; যে শুধু ফোঁসফাঁস করতে পারে, কিন্তু কোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে পারে না!
প্রশ্ন উঠতেই পারে- এটা কি গণতন্ত্র? এটা কি জনগণের বিজয়? না-কি এটি একটি সুপরিকল্পিত ক্ষমতা দখলের নাটক?
নেপালের জনগণ সাহস করে তাদের ভবিষ্যৎ নিজের হাতে তুলে নিয়েছে—এক ‘কিং কোবরা’কে ক্ষমতায় বসিয়ে। আমরাও তো পারতাম—ডা. শফিকুর রহমানের মতো এক সৎ, নির্ভীক, অদম্য নেতৃত্বকে সামনে আনতে! কিন্তু ভারতীয় প্রভাব, দেশীয় স্টেব্লিশমেন্ট—বিশেষ করে আমলাতন্ত্র ও সেনাবাহিনীর কিছু অংশ—মিলে সেই সম্ভাবনাকে দমিয়ে দিয়ে জনগণের ইচ্ছাকে পদদলিত করেছে। এর ফল কী? দেশজুড়ে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে- দখলবাজি, গুণ্ডামি, দুর্নীতি, অযোগ্যদের পদ দখল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার—সবকিছু যেন নতুন করে বৈধতা পাচ্ছে!
অথচ, আমরা দেখেছি—ডাকসু, রাকসু, চাকসু’র মতো জায়গাগুলোতে যখন আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব এসেছে, তখনই শৃঙ্খলা ফিরেছে, জবাবদিহিতা এসেছে, ইতিবাচক পরিবর্তনের বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়েছে। তাহলে, জাতীয় পর্যায়ে কেন সেই পরিবর্তন সম্ভব হলো না? এটা কি সেই বাংলাদেশ, যার জন্য লক্ষ মানুষ রক্ত দিয়েছে? এটা কি সেই দেশ, যেখানে ইনসাফ, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল?
ইতিহাস কিন্তু কখনো অন্যায়ের পক্ষে থাকে না। যতো শক্তিশালীই হোক—অন্যায়, অন্যায়ই; এবং একসময় তা পতনের দিকেই যায়।
আজ প্রয়োজন- একজন বালেন্দ্র শাহ’র মতো নির্ভীক, সৎ ও অদম্য রাষ্ট্রনায়ক, যিনি ভয়কে উপেক্ষা করে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে পারবেন, যিনি জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারবেন,
যিনি দেশের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
🔥 এখন সময়—জেগে ওঠার
🔥 এখন সময়—আবারো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার
🔥 এখন সময়—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর
শহীদ হাদী, মুগ্ধ, আবু সাঈদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। ৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লব কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে পারে না। ইনসাফ, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই—চলবেই।
লেখক পরিচিতি:
মো. রেযাউল করিম
গবেষক- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (২০০৫-২১)
ইমেইল: [email protected]
আরও পড়ুন:








