সোমবার

১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

মহা-ভূমিকম্পের আতঙ্কের ডাক শুনি; আমাদের কি কিছুই করার নেই?

মেশকাত সাদিক

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:৩২

আপডেট: ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:৩৩

শেয়ার

মহা-ভূমিকম্পের আতঙ্কের ডাক শুনি; আমাদের কি কিছুই করার নেই?

বাংলাদেশের অধিকাংশ জাতীয় দৈনিক গুরুত্ব সহকারে গত শুক্রবারের ভূমিকম্প নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছে। গত শুক্রবারে ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত ছোট ছোট অনেক ভূমিকম্প হয়েছে, যেগুলো সব হয়তো নথিবদ্ধ হয়নি। তবে দৈনিক 'আমার দেশ' পত্রিকা খুব বস্তুনিষ্ঠ কিছু সংবাদ পরিবেশন করেছে। বুয়েটের একজন অধ্যাপকের চমৎকার মতামত মন্তব্য সন্নিবেশ করেছে পত্রিকাটি। সেই সংবাদে দৈনিক 'আমার দেশ' জনগণকে সচেতন করতে জানিয়েছে যে, এ পর্যন্ত বড় ভূমিকম্পের পরে আরো ৫-৬ টি ছোট ছোট ভূমিকম্প সংগঠিত হয়েছে। গত শুক্রবারের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল প্রথমে ভারতের ত্রিপুরা বলা হলেও পরবর্তীতে দেখা গেল সেই তথ্য সঠিক নয়। বরং ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিলো নরসিংদীর নিকটবর্তী স্থানে। পরবর্তীতে ছোট ছোট ভূমিকম্পের, একটি সাভারের বাইপাইল, আরেকটি ঢাকার অদূরে বাড্ডায় কেন্দ্রস্থল ছিলো। পরবর্তী দুইটি ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিলো কম। যে কারণে তেমন কোন ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। তবে গত শুক্রবারের ভূমিকম্প ছিলো আতঙ্ক জাগানিয়া এবং ব্যাপক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ৫.৭ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে সারাদেশে ১১ জনের মতো মানুষ নিহত হয়। পুরানো ঢাকায় অনেক বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধসে পড়ে। গাজীপুরে কয়েকটি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং ঢাকা শহরে অনেক বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে এবং লাফিয়ে পড়তে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে সকল শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ভূমিকম্পের সবথেকে বড় ভয় হলো-কোন স্থানে ছোট ছোট অনেকগুলো ভূমিকম্প হওয়া মানেই হচ্ছে তীব্র এবং বড় আকারের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা খুব প্রবল হয়ে দেখা দেয়। পৃথিবীর ভূমিকম্পপ্রবণ দেশের মধ্যে সব থেকে ঝুঁকিতে রয়েছে জাপান। এরপর ইন্দোনেশিয়া এবং তুরস্ক। ইউরোপের ভিতরে ইতালী-ও অত্যন্ত নাজুক অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ার দেশগুলির ভিতরে জাপান, এরপরই যে কটি দেশ সব থেকে নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে তার ভিতরে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ অন্যতম।

প্রতিদিন পৃথিবীতে কোথাও না কোথাও ভূমিকম্প হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ ভূমিকম্পই কম তীব্র হওয়ায় ক্ষয়-ক্ষতির তেমন কোন ঘটনা ঘটছে না। মহাসাগরের তলদেশেও প্রতিদিন বড় বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হচ্ছে, যার কারণে অনেক সময় বড় বড় জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। এবং আবহাওয়া জলবায়ুর উপরে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। আমাদের ঢাকা অঞ্চল সিলেটসহ এখানে যে টেকটনিক প্লেট রয়েছে সেটির সঞ্চালন বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকাসহ সারাদেশ ভূমিকম্পের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ঢাকা হচ্ছে সবথেকে ঝুঁকিপ্রবণ শহর। এখানে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প ১৫-২০ সেকেন্ড স্থায়ী হলেই তছনছ হয়ে যেতে পারে সব। ৭ মাত্রা হলে তো ঢাকা শহর গাঁজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে যেতে পারে। যেহেতু ৫.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প গত ২১ নভেম্বর শুক্রবার হয়ে গেছে এবং এরপরেও বেশ কিছু ছোট ছোট এবং মাঝারি ভূমিকম্প হয়েছে। সুতরাং এখন বড় ভূমিকম্পের জন্য বড় প্রস্তুতি প্রয়োজন। যেহেতু ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞগণ বলছেন যে, এক সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। সেদিক বিবেচনায় ঢাকা শহরকে খালি করার জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা যেতে পারে। ৪-৫ দিনের একটি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে ঢাকা থেকে জনগণ ঢাকার বাইরে চলে গেলে এই শহরের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ভবন এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায়। এরপরেও যদি বড় ধরনের ভূমিকম্প সংঘটিত হয় সেক্ষেত্রে অন্তত সান্ত্বনা দেওয়া যাবে যে, ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আর যদি পাঁচ ছয় দিনের ভিতরে ব্যাপক ভূমিকম্প হয় তাহলে অনেক জান-মালের ক্ষতি থেকে দেশকে বাঁচানো সম্ভব হবে। বিষয়টি ভেবে দেখার এখনই উপযুক্ত সময়।

লেখক: কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক



banner close
banner close