ওয়াশিংটনের একচেটিয়া প্রভাব মানতে নারাজ তেল আবিব। নেতানিয়াহুর তুরুপের তাস ভারত। মোদির ‘ফাদারল্যান্ড’ মন্তব্যের পর মার্কিন চাপ সামলাতে ভারতকে টানলেন নেতানিয়াহু। এভাবেই ইসরায়েলকে বাবা এবং ভারতকে মা বলে সম্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
নয়াদিল্লির সেই পুরোনো সুরই এবার প্রতিধ্বনিত হলো তেল আবিবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ওয়াশিংটন ছাড়া ইসরায়েলের আর কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় সহযোগী নেই—মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এমন কড়া বার্তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু। হোয়াইট হাউজের এই প্রচ্ছন্ন হুমকির জবাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তুরুপের তাস হিসেবে সামনে এনেছেন ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশ ভারতকে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, মার্কিন প্রশাসনের বাইরেও ১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারত এখন তাদের অন্যতম বড় ভরসা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভারতীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের প্রশংসা করে তিনি বুঝিয়ে দেন, ওয়াশিংটনের একচেটিয়া প্রভাব মানতে নারাজ তেল আবিব। অবশ্য বিশ্বজুড়ে চলমান ইসরায়েল-বিরোধী প্রচারণাকে নিছক ‘ফ্যাশন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, পর্দার আড়ালে সামরিক রণকৌশল ও লাভজনক চুক্তির স্বার্থে বিশ্বনেতারা এখনও ইসরায়েলের ওপরই নির্ভরশীল।
গাজা, ইরান ও লেবানন ইস্যুতে বিশ্বজুড়ে কোণঠাসা ইসরায়েলকে সম্প্রতি সতর্ক করেছিল মার্কিন প্রশাসন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সমঝোতার পর জেডি ভ্যান্স মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, টিকে থাকার একমাত্র মিত্র আমেরিকার সঙ্গে যেন কোনো বৈরী আচরণ করা না হয়। নেতানিয়াহু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের প্রতি সম্মান জানালেও, তার সব কথায় অন্ধের মতো সায় দিতে নারাজ। উল্টো মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ টেনে স্মরণ করিয়ে দেন, হোয়াইট হাউজের ইতিহাসে ইসরায়েলের দেখা সবচেয়ে ‘সেরা বন্ধু’ ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কূটনীতির এই টানাপোড়েনের মাঝেই আমেরিকা ও ইরানের চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা সরাতেও সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেল আবিব। এ নিয়ে নেতানিয়াহুর দাবি, হিজবুল্লাহর হাত থেকে বাঁচতে লেবাননের খ্রিস্টান গ্রামগুলোই নাকি ইসরায়েলি বাহিনীর সুরক্ষা চাইছে। যদিও লেবাননের স্থানীয় প্রতিনিধিরা এই দাবিকে ‘ডাহা মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ফলে একদিকে মিত্র আমেরিকার চাপ, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে নতুন সমীকরণ—সব মিলিয়ে এক জটিল ভূ-রাজনীতির মুখোমুখি এখন মধ্যপ্রাচ্য।
আরও পড়ুন:








