বাংলাদেশি দর্শকদের ডিজিটাল বিনোদনমুখী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউবে স্থানীয় কনটেন্টের দর্শকসংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও আধুনিক ধারণশৈলীর কল্যাণে দেশের একক মিউজিক ভিডিওগুলো শত মিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়ে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউটিউবে সর্বাধিক ভিউ পাওয়া সেরা কনটেন্টগুলোর বড় অংশই একক গান, লোকসঙ্গীত, ইসলামিক গজল ও মূলধারার চলচ্চিত্রের গান।
একক ভিডিও হিসেবে এখন পর্যন্ত ইউটিউবে বাংলাদেশের সর্বাধিক দেখা গানের শীর্ষে রয়েছে আরমান আলিফের গাওয়া ‘অপরাধী’। ২০১৮ সালে মুক্তির পর গানটি বাংলা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এটিই প্রথম বাংলাদেশি গান, যা ইউটিউবে ১০ কোটি বা ১০০ মিলিয়ন ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে এবং বিশ্বব্যাপী টপ ১০০ মিউজিক ভিডিও চার্টেও জায়গা করে নেয়। গানটি বর্তমানে প্রায় ৪৫৭ মিলিয়ন বা ৪৫ কোটি ৭০ লাখ বার দেখা হয়েছে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাউল সুকুমারের জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত ‘বলবোনা গো আর কোন দিন’ অর্জন করেছে প্রায় ৩৮২ মিলিয়ন ভিউ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে আরমান আলিফের আরেক জনপ্রিয় গান ‘নেশা’, যার ভিউ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন।
বিনোদন অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল মেগাস্টার শাকিব খানের ‘তুফান’ সিনেমার গানগুলো। চলচ্চিত্রটির ‘দুষ্টু কোকিল’ ও ‘লাগে উরা ধুরা’ গান দুটি রেকর্ড গতিতে ভিউ অর্জন করে অল্প সময়েই শত মিলিয়নের ঘর পার করে সেরা তালিকার শীর্ষ সারিতে জায়গা করে নিয়েছে।
এ ছাড়া সেরা ১০-এর তালিকায় থাকা অন্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামিক কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘হলি টিউন’-এ প্রকাশিত কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর ইসলামিক গজল ‘তোমায় দেখে’ ২৭৫ মিলিয়ন+, মমতাজ ও রথীন্দ্রনাথ রায়ের প্লেব্যাক ‘বধু বেশে কন্যা’ ২৪৮ মিলিয়ন+, ইমরান মাহমুদুলের রোমান্টিক গান ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ ১৮৫ মিলিয়ন+, জিসান খান শুভর ‘তোর মনের পিঞ্জিরায়’ ১৭০ মিলিয়ন+ এবং শেখ সাদীর ‘ললনা’ ১৩৫ মিলিয়ন+ ভিউ।
অন্যদিকে, নাটকের ক্ষেত্রে একক কোনো ভিডিওর ভিউ শত মিলিয়নে না পৌঁছালেও, গড়ে ৩০ থেকে ৬০ মিলিয়ন ভিউ পাওয়া জনপ্রিয় নাটকগুলোর একাধিক পর্ব ও সিজন মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে শত কোটি ভিউয়ের সাফল্য এসেছে।
চ্যানেল ক্যাটাগরিতে সংবাদমাধ্যম ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ইনফোটেইনমেন্ট চ্যানেলগুলো সামগ্রিক ভিউয়ের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন:








