বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সভায় গুণী চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন, মনজুরুল ইসলাম মেঘ এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক রিয়াজুল রিজুকে আজীবনের জন্য সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রাঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্রবিরোধী এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাপ্রসূত।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় পরিচালক শাহীন সুমন ও শাহীন কবির টুটুল প্রকাশ্যে আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন। অন্যদিকে বদিউল আলম খোকন, মনজুরুল ইসলাম মেঘ ও রিয়াজুল রিজু আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সমিতির বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে আসছিলেন। সেই অবস্থানের জের ধরেই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ৪ জুলাই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সভায় ওই তিন পরিচালকের সদস্যপদ আজীবনের জন্য বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্তটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চলচ্চিত্রাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সমালোচকদের অভিযোগ, পরিচালক সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সদস্যকে বহিষ্কারের আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান, অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত করা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু বহিষ্কৃত তিন পরিচালকের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি সাধারণ সভার আলোচ্যসূচিতেও সদস্যপদ বাতিলের বিষয়টি ছিল না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে পরিচালক সমিতির বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়েও আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিচারাধীন অবস্থায় থাকা একটি কমিটির এমন সিদ্ধান্ত আইনগত ও সাংগঠনিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
ভুক্তভোগী পরিচালক রিয়াজুল রিজু জানিয়েছেন, তিনি এ ঘটনায় মানহানির মামলা করবেন। অন্যদিকে পরিচালক বদিউল আলম খোকন বলেন, বর্তমান কমিটি বৈধ নয় এবং তাদের নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তই আইনগত বৈধতা পাবে না।
এ বিষয়ে পরিচালক শাহীন কবির টুটুল বলেন, সাধারণ সভার আলোচ্যসূচিতে বহিষ্কারের বিষয়টি ছিল না। তাঁর ভাষ্য, সভায় আবেগের বশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন:








