মেয়াদোত্তীর্ণ শাওনের কামনায় হাস্যরস জুলাই সিডিআই’র নামে শাওনের খায়েশ মেটানোর বাসনা বিতর্কিত শাওনের পোস্ট। শাওনকে গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘন্টার হুঁশিয়ারি মঞ্চ-২৪ এর।
রক্তস্নাত জুলাই। যে মাসটি বাংলাদেশের ইতিহাসে লেখা হয়েছে ছাত্র-জনতার অসামান্য আত্মত্যাগ আর স্বৈরাচার পতনের এক অবিস্মরণীয় কালির আঁচড়ে। সদ্যই পেরিয়েছে এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি। কিন্তু ঠিক এই আবেগঘন সময়েই শহীদদের রক্তকে উপহাস করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন আওয়ামী দালালখ্যাত অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন।
২০২৪ সালের জুলাই। এদেশের কোটি কোটি ছাত্র-জনতার কাছে এক আবেগের নাম। অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল যে তরুণ সমাজ সেই জুলাইয়ের বর্ষপূর্তিতেই চরম ধৃষ্টতা দেখালেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। কোনো রাখঢাক ছাড়াই সামাজিক মাধ্যমে তিনি ব্যবহার করলেন নেতিবাচক ও আপত্তিকর হ্যাশট্যাগ জুলাই C-D-I তার এই অপ্রত্যাশিত পোস্ট মুহূর্তেই পরিণত হয় তীব্র ক্ষোভের দাবানলে।
ছাত্র-জনতার রক্তে কেনা এদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতাকে এমন সস্তা প্রোপাগান্ডায় রূপ দেয়ার অপচেষ্টাকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না নেটিজেনরা। তার এই পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হলে সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। নেটিজেনদের অনেকেই এই পোস্টের নেপথ্য কারণ হিসেবে শাওনের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় টেনে নানামুখী মন্তব্যে শাওনকে রীতিমতো তুলোধুনো করে।
হাসান শিকদার নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী দাবি করেন শাওনের বাবার ডাকনাম ছিল জুলাই। মো. রবিউস সানি এবং নাজমুল হাসান আকাশসহ অনেকেই প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা উপমা টেনে শাওনের এই মানসিকতার সমালোচনা করেন। অন্যদিকে ফিরোজ মজুমদার নামের আরেক ব্যবহারকারী সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন আমিই জুলাই আসো এবার। নেটিজেনদের বড় একটি অংশের দাবি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি এমন উপহাস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ছাত্র-জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন তার কঠোর শাস্তির।
শুধু ক্ষোভ প্রকাশই নয় কেউ কেউ আবার তার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জবাবও দিচ্ছেন ঠিক তার ভাষাতেই।
প্রতিবাদের ঝড় কেবল মন্তব্যের ঘরেই মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দেশের জনপ্রিয় অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া সমালোচনা করে লেখেন একজন শিল্পীও কতটা অমানুষ রুচিহীন ও বিবেকহীন হতে পারে এই পোস্টটি তার প্রমাণ।
এছাড়াও বাংলাদেশি লেখক ফাহাম আব্দুস সালাম তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাওনের পোস্টের মনস্তত্ত্ব নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। অন্যদিকে লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য এবং মীর জাহান সরাসরি শাওনের আর্থিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের দিকে ইঙ্গিত করেন জুলাই C-D-I বলা ব্যক্তিরা নরেন্দ্র মোদির উত্তরসূরী।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা এ.কে.এম রাকিব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাওনকে উদ্দেশ্য করে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন জুলাইয়ের রক্ত এখনো শুকায়নি গোপনাঙ্গ কর্তন কর্মসূচি দিয়ে দেব।
সমালোচনার এই প্রবল ঝড়ের মাঝেই মধ্যরাতে আরেকটি পোস্ট করে বসেন শাওন। তবে ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নামে গ্রাফিতির উদাহরণ টেনে তিনি উল্টো সুশীল সমাজের শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু তীব্র জনরোষের ভয়ে শেষপর্যন্ত কমেন্ট বক্স বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তিনি।
এর রেশ ধরে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী মেহের আফরোজ শাওনের মুখে জুতা নিক্ষেপের প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে মঞ্চ ২৪।
শাওনের মুখে জুতা নিক্ষেপ। মঞ্চ-২৪'-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী শাওনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন আওয়ামী লীগ ও ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে তৎপর শাওন। ফাহিম ফারুকী আহ্বায়ক মঞ্চ-২৪।
এদিকে জুলাই নিয়ে এমন বিরূপ মন্তব্য কেবল শাওনের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। এক টকশোতে জুলাইকে ডিজাইন ও ষড়যন্ত্র বলায় উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম ও চ্যানেল আইকে বর্জনের ডাক দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির।
এছাড়া সাংবাদিক আনিস আলমগীর মন্তব্য করেন জুলাই নাম দিয়ে যত সংগঠন আছে বেশির ভাগই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্কিত। নানা সময়ে এই আনিস আলমগীর জুলাই নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষের অধিকারের আন্দোলন জুলাইকে রাজনীতিকরণের মাধ্যমে মূলত আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে করছেন আনিস আলমগীর। এমন অভিযোগ অনেকেরই।
এসবের বাইরে মূলত ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান সরকার বিএনপি ও জামায়াত এনসিপিকে নিয়ে অভিনেত্রী শাওনের ধারাবাহিক কটাক্ষের শেকড় অনেক গভীরে। তার মা বেগম তহুরা আলী ছিলেন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য। সেই পারিবারিক রাজনৈতিক আদর্শ থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে সমালোচনা রয়েছে।
একইভাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে মেহের আফরোজ শাওন তুলে ধরেন বিগত এবং বর্তমান সময়ের সংবাদ শিরোনামের পার্থক্য। সেখানে তিনি পরোক্ষভাবে বোঝাতে চেয়েছেন দুই বছর আগে সংবাদ ছিল মেগা প্রজেক্টের উন্নয়ন। আর এখন তার সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ব্যক্তিগত প্রচারণায়। অর্থ্যাৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অযৌক্তিক সমালোচনাই ছিলো তার পোস্টের মূল বিষয়।
রক্তস্নাত জুলাই। যে মাসে ছাত্র-জনতার অসামান্য আত্মত্যাগে ধূলিসাৎ হয়েছিল স্বৈরাচারের অহঙ্কার। সেই জুলাইয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতেই শহীদদের রক্তকে উপহাস করে এক নোংরা খেলায় মেতেছেন শাওনসহ আওয়ামী দালালরা। শহীদদের আত্মত্যাগকে ষড়যন্ত্র আর ডিজাইন আখ্যা দিয়ে তারা যে ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আজ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন:








