চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তাঁর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের পূর্বের আদেশ বাতিল করেছে আদালত। মামলার বাদী ও সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এই সিদ্ধান্ত প্রদান করে। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান আদালত কর্তৃক আদেশ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৪ মে আদালত লাশ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিল। তবে ১০ জুন বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ধর্মীয় অনুভূতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও লাশের বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনা করে এই আদেশ বাতিলের আবেদন করেন বাদী। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৬ সালের ঘটনার পর ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে একবার সালমান শাহর লাশ তোলা হয়েছিল যা সে সময়েই মাত্রাতিরিক্ত পচনশীল অবস্থায় পাওয়া যায়। দীর্ঘ ৩০ বছর পর বর্তমানে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে থাকা এই দেহাবশেষ পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
আবেদনে আরও বলা হয়, বারবার লাশ উত্তোলন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পাশাপাশি মাজার প্রাঙ্গণে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি করতে পারে। মামলার বাদী আলমগীর কুমকুম এবং সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর তীব্র আপত্তির মুখে আদালত পূর্বের আদেশটি বাতিল ঘোষণা করে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু হয়। শুরুতে অপমৃত্যু মামলা হলেও ১৯৯৭ সালে তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। দীর্ঘ তিন দশকে সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পিবিআই তাদের প্রতিবেদনে জানায়, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং পারিবারিক কলহের জেরে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
তবে সালমান শাহর পরিবার শুরু থেকেই এসব তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আদালতে নারাজি দিয়ে আসছে। সর্বশেষ গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে সিআইডি এই মামলাটির তদন্ত পরিচালনা করছে এবং সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই লাশ তোলার আবেদন করা হয়েছিল। আজ এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন ধার্য রয়েছে।
আরও পড়ুন:








