বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনে কাস্টিং কাউচ এবং অনৈতিক প্রস্তাবের সংস্কৃতি বিদ্যমান রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রবীণ অভিনেত্রী ইলোরা গহর। বাংলা এডিশনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
মূল অভিযোগ
ইলোরা গহর জানান, চলচ্চিত্রে সুযোগ পেতে প্রায়ই মেধার চেয়ে প্রযোজক বা নায়কদের ব্যক্তিগত সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। যারা এ ধরনের অনৈতিক শর্তে রাজি হন না, তারা কাজ থেকে বঞ্চিত হন এবং তাদের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতা ছাড়াই অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে কেউ কেউ দ্রুত খ্যাতি অর্জন করছেন এবং জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারও পাচ্ছেন।
সিন্ডিকেট ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
সাক্ষাৎকারে ইলোরা গহর চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি প্রভাবশালী চক্রের অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেন, যাকে তিনি ফারুকী চক্র বলে অভিহিত করেন। তার দাবি, এই বলয়টি নির্ধারণ করে কে কাজ পাবেন এবং কার ক্যারিয়ার বাধাগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বড় প্রকল্প ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সেন্সর বোর্ড ও চলচ্চিত্রের মান নিয়ে প্রশ্ন
হাসান জাহাঙ্গীর পরিচালিত কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ চলচ্চিত্রটি নাটক না চলচ্চিত্র, তা স্পষ্ট না করেই সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে বলে আপত্তি জানান ইলোরা গহর। তিনি বলেন, বর্তমান চলচ্চিত্রের একটি বড় অংশ পরিবারের সঙ্গে দেখার উপযোগী নয়।
নিজের অভিজ্ঞতা
ইলোরা গহর জানান, তাকেও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং তা প্রত্যাখ্যান করায় বারবার কাজ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ক্যারিয়ারজুড়ে এই বৈষম্য তার জন্য বড় যন্ত্রণার কারণ হয়েছে।
সমাধানের প্রস্তাব
অভিনেত্রী মনে করেন, মিডিয়া অঙ্গনে প্রবেশের আগে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সরকারি প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত। এর মাধ্যমে শিল্পে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
প্রাসঙ্গিক পটভূমি
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে কাস্টিং কাউচ ও অনৈতিক চাপের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও প্রকাশ্যে বিস্তারিত অভিযোগ তোলা হয় না বললেই চলে। ইলোরা গহরের এই সাক্ষাৎকার বিষয়টিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।
আরও পড়ুন:








