অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের সাম্প্রতিক একাধিক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দলকে লক্ষ্য করে করা তাঁর পোস্টগুলোকে উসকানিমূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন অনেক নেটিজেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
শাওন তাঁর ফেসবুকে ছোট ছেলে নিনিত হুমায়ূনের 'ও' লেভেল পরীক্ষা প্রসঙ্গে একটি পোস্টে দাবি করেন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একাধিকবার তাঁর গাড়িতে হামলা হয়েছে এবং নিরাপত্তার অভাবে গত এক বছর সন্তানকে স্কুলে না পাঠিয়ে ঘরে পড়াতে বাধ্য হয়েছেন। জামালপুরে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদের ঘটনাতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি এবং ওই প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ ও জিল্লুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন।
দেশে হামের প্রকোপ নিয়ে করা একটি পোস্টে শাওন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে তাঁকে একজন প্রতিবন্ধী শিশুকে সহায়তা করতে দেখা যায়। পরবর্তী একটি পোস্টে তিনি একটি ছবি যুক্ত করে নেটিজেনদের তিনটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান। সেখানে তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির নাহিদ ইসলামের ছবি ব্যবহার করে ব্যঙ্গাত্মক প্রশ্ন রাখা হয়। অনেকে মনে করছেন, হামে শিশুমৃত্যুর প্রসঙ্গে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই এই পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার ভাইরাল ভিডিওটিকে কেন্দ্র করেও একটি পোস্ট দেন শাওন। সেখানে তিনি ভিডিওটিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রকাশিত বলে ইঙ্গিত দিয়ে প্রশ্ন রাখেন, গাড়ির পেছনে বসে চিত্রধারণকারী ব্যক্তিটি কে এবং তাঁকে এই কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল কি না।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আরও একটি পোস্টে শাওন দুই বছর আগের এবং বর্তমানের সংবাদ শিরোনামের তুলনা উপস্থাপন করেন। দুই বছর আগে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের খবর যেখানে শিরোনাম হতো, সেখানে এখন প্রধানমন্ত্রীর পায়ে হেঁটে অফিস যাওয়া বা বিড়ালকে বিদেশ থেকে আনার খবর শিরোনাম হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, এই পোস্টের মাধ্যমে শাওন কৌশলে সাবেক সরকারের প্রশংসা করে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করেছেন।
এসব পোস্টকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, শাওন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে পরোক্ষভাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এবং জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার বিপরীত অবস্থান নেওয়ার পরও তিনি নিজের ভুল স্বীকার না করে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কার্যক্রমের অভিযোগ তুলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন একাংশ।
একই আলোচনায় উঠে এসেছে সাংবাদিক মুন্নী সাহার নাম। বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, আগে তাঁর নামের সঙ্গে সাহসী বিশেষণ যুক্ত হলেও এখন তাঁকে দোসর আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফাহাম আব্দুস সালাম সামাজিক মাধ্যমে জানান, মুন্নী সাহা একটি খুনি শাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাঁর ব্যাংক হিসাবে পাওয়া বিপুল অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন:








