সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা পুরোনো ভবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ক্লাস বর্জন এবং সেমিস্টার ফি প্রদান বন্ধ রেখেছেন। ভবনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভাগের অন্যান্য সমস্যা সমাধানের দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।
ভবনের ছাদ থেকে ঢালাই খসে শিক্ষার্থী আহত
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভূমিকম্পের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছিল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভবনটি পরিদর্শন করানো হয়েছে এবং সেখানে ক্লাস করতে কোনো ঝুঁকি নেই।
তবে এক বছর পার হওয়ার আগেই ভবনটির প্রথম তলার ১০৭ ও ১০৯ নম্বর কক্ষের ছাদের ঢালাই খসে পড়ে। এতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৬২তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ছাড়া ভবনের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফেব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং ল্যাবের একটি পিলারের চারপাশেও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ফাটলযুক্ত স্থানে শুধু প্লাস্টার করে দেওয়া হচ্ছে, যা ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। ভবনের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে প্রতিবেদন চাওয়া হলেও বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা দিতে পারেনি। বরং শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন ভবনের একটি কক্ষেও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্বের অভিযোগ
ভবনের নিরাপত্তার বিষয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা শিক্ষার্থীদের জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশের কথা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তারা।
তবে নির্ধারিত সময়ের পর শিক্ষার্থীরা তদন্তের অগ্রগতি জানতে গেলে কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হয় এবং আরও সময় চায়। এতে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ কাটেনি।
শিক্ষার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েও অসন্তোষ
ভবনের নিরাপত্তা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, পুরোনো ভবনের প্রজেক্টর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) সময়ের সঙ্গে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কম্পিউটারগুলোও অনেক পুরোনো প্রজন্মের। শিক্ষার্থীর তুলনায় পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ক্লাস করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রয়োজনের তুলনায় কম্পিউটার ল্যাবের সংখ্যাও কম।
টেক্সটাইল ভবনে একটি লাইব্রেরি থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় সেটি অপ্রতুল। একইভাবে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতি সেমিস্টারে কোর্স ফি বাড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সেমিস্টার ফি ও পরিবহন ব্যবস্থা নিয়েও অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি পরিশোধের নিয়ম নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ক্লাস শুরু হওয়ার পরপরই সেমিস্টার ফির ৪০ শতাংশ পরিশোধ করতে হয়, যা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করে। নির্ধারিত সময়ে ফি দিতে না পারলে উপস্থিতি (অ্যাটেনডেন্স) বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জরিমানাও আদায় করা হয়।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবা থাকলেও শিক্ষার্থীর প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। এ কারণে পরিবহন সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, পুরোনো ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি পূরণ, ফি-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং পরিবহন সুবিধা বাড়ানোর দাবিতে তারা ক্লাস বর্জন ও ফি প্রদান বন্ধ রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
আরও পড়ুন:







