বৃহস্পতিবার

৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২১ কার্তিক, ১৪৩৩

মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনা যবিপ্রবি অধ্যাপক জাভেদের ন্যানো ফিশ ফিডে পেটেন্ট

আল আমিন,যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:২৯

শেয়ার

মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনা যবিপ্রবি অধ্যাপক জাভেদের ন্যানো ফিশ ফিডে পেটেন্ট
ছবি: বাংলা এডিশন

অতি ক্ষুদ্র আকারে খনিজ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ মাছের খাদ্য তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবন করে পেটেন্ট অর্জন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং NAME Lab-এর পরিচালক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান। তাঁর উদ্ভাবিত ‘ন্যানো ফিশ ফিড’ মাছের খাদ্যে পুষ্টি উপাদানের কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্যের অপচয় ও জলদূষণ কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১ নভেম্বর রবিবার বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (DPDT) থেকে জারি করা ‘নোটিশ অব গ্রান্ট’-এর মাধ্যমে পেটেন্ট অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পেটেন্ট সিরিয়াল নম্বর ১০০৭১৮৮। এর শিরোনাম (ভিটামিনসহ স্মার্ট ন্যানো-মাইক্রো আকারের মাছের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া)।

অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান জানান, মাছের খাদ্যে আয়রন, জিংক, কপার ও সেলেনিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ এবং ভিটামিন অতি ক্ষুদ্র আকারে মিশিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য তিনি এ পেটেন্ট পেয়েছেন। তাঁর আশা, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছের শরীরে পুষ্টি উপাদানগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

উদ্ভাবিত প্রযুক্তির কার্যকারিতা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান বলেন, “মাছ খাদ্যের সব পুষ্টি কাজে লাগাতে পারে না। যে অংশ কাজে লাগে না, তা পুকুরের পানিতে জমে বর্জ্য হয়। অন্যদিকে মাছ চাষের সবচেয়ে বড় খরচই খাদ্য। তাই একই খাদ্য থেকে মাছ বেশি পুষ্টি পেলে চাষির লাভ হতে পারে এবং পুকুরের পানি কম দূষিত হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও নিউট্রিয়েন্ট বিদেশ থেকে, বিশেষ করে ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। ন্যানো প্রযুক্তিনির্ভর এ ফর্মুলেশন ব্যবহার করা গেলে অল্প পরিমাণ উপাদান দিয়েই অধিক কার্যকারিতা পাওয়া সম্ভব হবে। এতে খাদ্যের অপচয় কমবে, পরিবেশের ওপর চাপ হ্রাস পাবে এবং মাছের গুণগত মান উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য কৃষিজমিতে সার প্রয়োগের মতো আলাদা কোনো ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে না। প্রচলিত ফিড মিলগুলোতে মাছের খাদ্য তৈরির সময় প্রয়োজনীয় উপাদানের সঙ্গে এটি মিশিয়ে দেওয়া যাবে। ফলে নারিশ, কাজী ফার্মস কিংবা আফিলের মতো মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে সহজেই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ প্রযুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।”

উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের জন্য প্রথম পেটেন্ট অর্জন করেন অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান। ‘ন্যানো ফিশ ফিড’ উদ্ভাবনের স্বীকৃতি তাঁর দ্বিতীয় পেটেন্ট অর্জন।



আরও পড়ুন: