বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঝালকাঠি। পাসের হারে জেলার অবস্থান সবার নিচে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কম হওয়ায় জেলার শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার ঝালকাঠি জেলা থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ হাজার ৬৯৯ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১ হাজার ৬৫৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩ হাজার ৪৬ জন। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি পাস করতে পারেনি। জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩৮ জন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা ঝালকাঠির এ ফলাফলকে জেলার শিক্ষাক্ষেত্রের জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার সার্বিক মান নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে এ পরিস্থিতির মূল্যায়ন শেষ করা যাবে না। কেন এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলো, তা চিহ্নিত করা জরুরি। নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, পাঠদানে দুর্বলতা, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং শিক্ষা প্রশাসনের তদারকির মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পাঠদানে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং শিক্ষা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
শিক্ষার অগ্রগতিতে সম্ভাবনাময় একটি জেলার এমন ফলাফল নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন:







