চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের শহর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম শাটল ট্রেন। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী এই ট্রেনে যাতায়াত করেন। তবে শাটলে আসন দখল করে রাখার প্রবণতা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেকের জন্য। এক শিক্ষার্থী ট্রেনে উঠে নিজের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও একাধিক আসন আটকে রাখেন। ফলে আগে ট্রেনে উঠেও অনেক শিক্ষার্থীকে বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ প্রবণতাকে অপসংস্কৃতি হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা।
গত মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাসগামী শাটলে সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের বটতলী স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠা কিছু শিক্ষার্থী নিজেদের জন্য একাধিক আসন ধরে রাখছেন। কোনো আসনে রাখা হয়েছে ব্যাগ, কোথাও ছাতা, আবার কোথাও অন্য কোনো জিনিসপত্র। অথচ এসব আসনে যাঁদের জন্য জায়গা রাখা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই উঠছেন পরবর্তী স্টেশন ষোলশহর থেকে। এর মধ্যে বটতলী থেকে ষোলশহর পর্যন্ত পথটুকুতে আসনগুলো খালি থাকলেও অন্য শিক্ষার্থীরা সেখানে বসতে পারছেন না।
এ নিয়ে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। আসন ধরে রাখার পক্ষে কেউ কেউ একে প্রচলিত নিয়ম বলে দাবি করেন। তাঁদের যুক্তি, আগে ট্রেনে উঠলে নিজের ইচ্ছামতো অন্যের জন্য আসন রাখা যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, শাটলে এ ধরনের আসন ধরে রাখার কোনো নিয়ম নেই। ফলে অলিখিত নিয়মের দোহাই দিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
শাটলে নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, “শাটলে অনেক সময় খালি সিট থাকলেও বসতে পারি না। বলা হয়, সিটটা অন্য একজনের জন্য ধরে রেখেছেন। এটা কেমন সংস্কৃতি? আবার বলা হয়, এটা নাকি নিয়ম। এই সংস্কৃতি দূর হওয়া উচিত।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হোসেন বলেন, “শাটলে সিট ধরার কোনো নিয়ম নেই। যে আগে উঠবে, সে আগে বসবে। কোনো শিক্ষার্থী বাড়াবাড়ি করলে আমাকে অবহিত করলে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই বাহনে আসন নিয়ে এমন অনিয়ম ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শাটলে আগে ওঠা শিক্ষার্থীর আসন পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা গেলে এ নিয়ে বিরোধ ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
আরও পড়ুন:







