সোমবার

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১ কার্তিক, ১৪৩৩

১৪তম বছরে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, স্থায়ী ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরুর লক্ষ্য ২০২৭ সালে

সাদিকুর রহমান সাদি,মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৪

শেয়ার

১৪তম বছরে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, স্থায়ী ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরুর লক্ষ্য ২০২৭ সালে
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ার ৩য় এবং বিশ্বের ১২তম মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, যা দেশের ৩৭তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পেরিয়ে ১৪তম বছরে পদার্পণ করছে দেশের প্রথম বিশেষায়িত এই সামুদ্রিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ সময়ে মেরিটাইম খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে অগ্রগতি হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা বিশ্ববিদ্যালয়টির সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা এখন চট্টগ্রামের স্থায়ী ক্যাম্পাসে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করা।

বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস চট্টগ্রামের বাকলিয়ার হামিদচরে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ১০৬ দশমিক ৬৬ একর জমিতে নির্মিত হচ্ছে। ২০১৮ সালে এ ক্যাম্পাসের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) অনুমোদিত হয়। ২০২৪ সালের ৪ মার্চ ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের প্রত্যাশা থাকলেও নির্মাণকাজ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় এখনো ঢাকার মিরপুর-১২-এর অস্থায়ী ক্যাম্পাসেই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল সেমিস্টারের প্রথম সপ্তাহ থেকে চট্টগ্রামের স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্নাতক পর্যায়ের ক্লাস শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে শ্রেণিকক্ষ ও অফিসের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, জনবল এবং অন্যান্য স্থায়ী সম্পদ স্থানান্তরের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

স্থায়ী ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করলেও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নির্ধারিত সময়ে স্থানান্তর সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক সুবিধা নিশ্চিত করা। তাঁদের মতে, শুধু নতুন ভবনে পাঠদান শুরু নয়, বরং আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার সুযোগ, পর্যাপ্ত ব্যবহারিক সুবিধা ও আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমেই স্থায়ী ক্যাম্পাসের সুফল পাওয়া সম্ভব।

মেরিটাইম ল’ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোঃ আল ইমরান বলেন, “একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির সম্ভাবনা অনেক। কিন্তু দীর্ঘদিন অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে প্রত্যাশা যেমন বেড়েছে, তেমনি অপেক্ষাও দীর্ঘ হয়েছে। আমরা চাই, ২০২৭ সালের এপ্রিল সেমিস্টারে ক্লাস শুরুর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা যেন নির্ধারিত সময়েই বাস্তবায়িত হয়। শুধু স্থানান্তর করলেই হবে না, নতুন ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, গবেষণার পরিবেশ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে। স্থায়ী ক্যাম্পাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, “আমাদের মতো প্রকৌশলভিত্তিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ল্যাব, প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থায়ী ক্যাম্পাসে এসব সুবিধা পর্যাপ্তভাবে গড়ে তোলা গেলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা আরও ভালোভাবে বিকাশের সুযোগ পাবে। তাই ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে শুধু ভবন নির্মাণ শেষ করাই নয়, প্রয়োজনীয় ল্যাব, যন্ত্রপাতি ও ব্যবহারিক শিক্ষার পরিবেশ প্রস্তুত রাখাও জরুরি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্থায়ী ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরু হলে সেটি যেন শিক্ষার মান উন্নয়নেরও নতুন সূচনা হয়।”

বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে, দেশের সামুদ্রিক খাতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্য নিয়ে। সমুদ্রবিজ্ঞান, নৌযান নির্মাণ ও অফশোর প্রকৌশল, সামুদ্রিক মৎস্য, মেরিটাইম স্টাডিজ, বন্দর ও নৌপরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং সমুদ্র আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে এখানে। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি করা হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে সামুদ্রিক উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বিকাশের উদ্যোগও নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। আন্তর্জাতিক বৃত্তি, মেরিটাইমবিষয়ক প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এসব উদ্যোগের অংশ। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের মধ্যে একাডেমিক ও পেশাগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরও সামুদ্রিক ও নৌপরিবহন খাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ জোরদারের একটি উদ্যোগ।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের কিছু প্রত্যাশাও রয়ে গেছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা এবং ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এসব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রতিষ্ঠার ১৪তম বছরে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির সামনে তাই দুটি বড় চ্যালেঞ্জ; একদিকে নির্ধারিত সময়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা, অন্যদিকে সেই ক্যাম্পাসকে সামুদ্রিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উপযোগী আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের এপ্রিল সেমিস্টারে চট্টগ্রামের স্থায়ী ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরু করা গেলে তা বিশ্ববিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।