রবিবার

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০ কার্তিক, ১৪৩৩

সর্বশেষ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক দীর্ঘ ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দরে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কমনওয়েলথ বৈঠকে যোগ দেবেন হুমায়ুন কবির বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’ চট্টগ্রামের শাহ আমানত থেকে ৪৯টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার; মূল্য প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা ছেলেকে চাকরি দিয়ে দুদকের আসামি হলেন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য রিয়াদ-দাম্মাম রুটে চার নভেম্বর পর্যন্ত বিমানের ফ্লাইট স্থগিত মেহেরপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবনসহ দুই লাখ টাকা জরিমানা

সারের অপচয় কমানোর সম্ভাবনা, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবি অধ্যাপক

আল আমিন, যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১৬

শেয়ার

সারের অপচয় কমানোর সম্ভাবনা, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবি অধ্যাপক
ছবি: বাংলা এডিশন

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস। ২০২১ সালে পেটেন্টের জন্য আবেদন করার প্রায় পাঁচ বছর দুই মাস পর উদ্ভাবনটির স্বীকৃতি পেলেন তিনি।

গতকাল রবিবার (২৫ অক্টোবর) পেটেন্টটি অনুমোদন করা হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক জাভেদ ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘদিন ধরে আবেদনটি অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল।

পেটেন্ট অনুমোদনের বিষয়ে অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান বলেন, এ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ জন্য তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক জাভেদের মতে, ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দক্ষতা বাড়ানো, সারের অপচয় কমানো, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ফসলের ফলন বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, তা কমাতেও এ প্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচায়ক। তাঁর মতে, প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় সাশ্রয়ী ব্যয়ে ফসলের জন্য সমপরিমাণ পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমতে পারে। একই সঙ্গে ইউরিয়া সার আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান ২০১৩ সাল থেকে যবিপ্রবিতে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হন।

পেটেন্ট অনুমোদনের ফলে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটির আরও উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে কৃষিক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ে যাচাই প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।