চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘প্রবন্ধসমগ্র’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেমিনারে উপস্থাপিত নির্বাচিত ১৩টি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চাকসু প্রাঙ্গণে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে চাকসুর নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রন্থটিতে চাকসুর বিভিন্ন বিভাগের উদ্যোগে গত এক বছরে আয়োজিত সেমিনারে উপস্থাপিত নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। সংকলনটি শিক্ষার্থীদের গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও মুক্তবুদ্ধির বিকাশে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন চাকসুর সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক জিহাদ আহনাফ। এ সময় বক্তব্য দেন চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হারেস মাতব্বর, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, সহ-যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল সালমান, লাইব্রেরি ও ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক তানভীর আনজুম শোভন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান।
‘চাকসু নির্বাচিত প্রবন্ধসমগ্র’ গ্রন্থের সম্পাদক ও চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হারেস মাতব্বর বলেন, চাকসুর গত এক বছরে আয়োজিত বিভিন্ন সেমিনারের প্রবন্ধ একত্র করে বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে স্বনামধন্য লেখকদের ১৩টি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। এসব প্রবন্ধের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, চাকসু শুধু অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এসব আয়োজনের বিষয়বস্তু ইতিহাসের পাতায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। বইটি প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত সম্পাদক, সম্পাদকীয় উপদেষ্টা, সম্পাদনা সহযোগীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব বলেন, এ ধরনের প্রবন্ধ সংকলন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও গবেষণামূলক ভাবনাগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে। বইটি প্রকাশের জন্য প্রবন্ধ সংগ্রহ থেকে শুরু করে মোড়ক উন্মোচন পর্যন্ত চাকসুর সংশ্লিষ্ট সম্পাদকরা অনেক পরিশ্রম করেছেন। এ ধরনের শিক্ষা ও সাহিত্যবান্ধব কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নতুন আশার আলো দেখাবে।
অনুষ্ঠানে চাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। ক্যাম্পাসে চক্রাকার বাস চালু করেছি, তিনটি হলে এক্সটেনশনের ব্যবস্থা করেছি। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণের বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেছি এবং চাপ দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক হলে রিডিং রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ভেঙে সেসব জায়গায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে অনেক অপবাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ হাজির করতে না পেরে এখন ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে।’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, চাকসুর ভিপি হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি বিষয়ে প্রমাণ দিতে পারলে তিনি পদত্যাগ করবেন। প্রথমত, চাকরির জন্য সুপারিশ করা বা কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। দ্বিতীয়ত, তাঁর বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতির অভিযোগও প্রমাণিত হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। তৃতীয়ত, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো শিক্ষার্থীকে বিশেষ সুবিধা দিতে তিনি আসন বরাদ্দের আবেদন করেননি বলে দাবি করেন।
আরও পড়ুন:


.jpg)




