জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মুক্তমঞ্চে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। এ নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসির বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর জিএসসিসি/পিআরডি/৭৯/২০২৬-২০২৭ উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে গরুর মাংস রান্না করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের একদল শিক্ষার্থী। মুক্তমঞ্চের অপর পাশে অস্থায়ী পূজামণ্ডপ থাকায় সেখানে গরুর মাংস রান্না নিয়ে আপত্তি তোলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী একদল শিক্ষার্থী। তাঁদের অভিযোগ, পূজামণ্ডপের সামনে গরুর মাংস রান্না করা হয়েছে। এ ছাড়া রান্নার চুলা তৈরিতে মন্দিরের ইট ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে গত দুই দিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক চলছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আয়োজনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু রান্নার সময় গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় তাঁরা মুক্তমঞ্চের উন্মুক্ত স্থানে রান্না শুরু করেন। এ সময় চুলা তৈরির জন্য আশপাশে থাকা কয়েকটি ইট ব্যবহার করা হয়। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী একজন শিক্ষার্থী এসে এগুলো মন্দিরের ইট এমন তথ্য জানালে তারা সেগুলো আর ব্যবহার করেননি। একই সাথে রান্নার স্থানও তারা পরিবর্তন করেন।
প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে সাফায়েত নাসির নামে এক শিক্ষার্থী পোস্টে লিখেন, 'আমি এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ফ্যাসিস্ট আমলে নানা বাহানায় ইসলাম পালনে বাধা দেওয়া হতো। নামাজ পড়ার কথা বললে রাজনৈতিক দলের ট্যাগ দেওয়া চেষ্টা করা হতো। এসব নিষিদ্ধ পুনরায় সেদিকে ধাবিত করছে।'
আরও পড়ুন:







