গাজীপুরের বোর্ডবাজারে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) ১৬টি সদস্য দেশের মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।
আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. হোসেন আরাবি নূরসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানান এবং শিক্ষার্থীদের সব সময় জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী থাকা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশ ও বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
মাহদী আমিন ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ তাঁদের বক্তব্যে গ্র্যাজুয়েটদের নৈতিকতা বজায় রাখা, আজীবন শেখার মানসিকতা ধারণ করা এবং অর্জিত জ্ঞানকে সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ বলেন, আইইউটি বিশ্বব্যাপী একটি মর্যাদাপূর্ণ ও উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুসলিম উম্মাহসহ বিশ্বের সামগ্রিক অগ্রগতিতে অবদান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদারে কাজ করছে।
তিনি গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, অর্জিত ডিগ্রি কেবল একটি সনদ নয়; বরং সততা, পেশাদারত্ব ও সহমর্মিতার সঙ্গে সমাজের সেবা করার গুরুদায়িত্বও।
ওআইসির মহাসচিব ও আইইউটির চ্যান্সেলর ইসমাইল ওল্ড শেখ আহমেদ তাঁর বার্তায় নৈতিক নেতৃত্বসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে আইইউটির ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রমে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারকেও ধন্যবাদ জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের সমাবর্তনে বিভিন্ন বিভাগের মোট ৬৫৯ জন গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১৫৫ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১৪৯ জন, মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১৪৭ জন, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১২৬ জন, বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ৫৭ জন এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন বিভাগে ২৫ জন রয়েছেন।
এ ছাড়া অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সুমাইয়া আহমেদ রানীকে ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে আশফাক সিরাজ শুভ, মুহাম্মদ সাফায়াত জামিল, খালিদ হাসান আদর, আদিবা জাহীন, ফারহান লবিব ও তাসফিয়া মাহমুদকে ‘আইইউটি গোল্ড মেডেল’ দেওয়া হয়।
সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি দেয়া হয়। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের গ্র্যাজুয়েটদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সততা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।
আরও পড়ুন:







