রবিবার

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

১১২ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ বোর্ডের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৬:৪৫

শেয়ার

১১২ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ বোর্ডের
ছবি সংগৃহীত

টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় দেশের ১১২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধসহ অনুমোদন বাতিল করা হতে পারে।

শোকজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী ৮৬টি প্রতিষ্ঠান এবং ২৬টি কারিগরি এইচএসসি (বিএমটি) প্রতিষ্ঠান।

পঞ্চগড় সদরের নতুন বস্তি এলাকায় অবস্থিত মিনাল বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এসব প্রতিষ্ঠানের একটি। গত পাঁচ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত শিক্ষার্থীশূন্য। কাগজে-কলমে ১৫ জন শিক্ষক থাকলেও তাঁদের কেউ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসেন না। শুধু অধ্যক্ষ মাঝেমধ্যে সেখানে যান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ জামিনুল ইসলাম এ তথ্য স্বীকার করেন। তিনি বলেন, করোনার পর থেকে শিক্ষার্থী কমতে শুরু করে। শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার দিকে ঝুঁকেছে। গত চার বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে কারিগরি শিক্ষার প্রতি সরকারের সুনজর প্রত্যাশা করেন তিনি।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ডিপ্লোমা পর্যায়ের ৮৬টি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত জুলাইয়ে টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করায় ২৬টি কারিগরি এইচএসসি (বিএমটি) প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়।

বোর্ডের শোকজ চিঠিতে বলা হয়েছে, ডিপ্লোমা পর্যায়ের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান-সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০-এর বিধি ৪.৪ অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে পাঠদানের অনুমতি বাতিল করা যেতে পারে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমোদনের সময় আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণ।

প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী, টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করলে অনুমোদন বাতিলযোগ্য। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশে বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ৪৬৭টি বেসরকারি পলিটেকনিকের মধ্যে শুধু ঢাকাতেই রয়েছে প্রায় ৭০টি। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই মানহীন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিস্থিতি আরও খারাপ। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য ২০০৯ সালে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়, যা ২০১২ সালে সংশোধন করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালার শর্ত কতটা পূরণ করছে, তা নিয়ে বোর্ড কর্মকর্তাদের তদারকির ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, নীতিমালার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ শর্ত পূরণ করলেই প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া কোনো কোনো কর্মকর্তা প্রতি মাসে বেসরকারি পলিটেকনিক থেকে টাকা নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।