চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) উদ্যোগে সাজিনাজ হাসপাতালের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজনের কথা থাকা মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ও জিএস সাঈদ বিন হাবিবের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এজিএসের অভিযোগকে মিথ্যাচার দাবি করে তা প্রমাণ করতে পারলে পৈতৃক সম্পদ বিক্রি করে ১০ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন জিএস।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক পোস্টে তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক দাবি করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। নির্ধারিত স্থানেও কাজ চলছিল। তবে জিএসের ফেসবুক পোস্টে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রতিবাদ করায় তাঁর হস্তক্ষেপে ক্যাম্পটি স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন এজিএস।
অন্যদিকে, জিএস সাঈদ বিন হাবিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কিংবা তাঁর মাধ্যমে অন্য কেউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে ক্যাম্প স্থগিত করিয়েছেন, এমন অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। পাশাপাশি পৈতৃক সম্পদ বিক্রি করে এজিএসকে ১০ কোটি টাকা পুরস্কার দেবেন। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।
জিএস আরও দাবি করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে চাকসুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। ক্যাম্প স্থগিতের প্রকৃত কারণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই ব্যাখ্যা করতে পারবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, চাকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদকের মাধ্যমে জিএস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে ক্যাম্প বন্ধ করিয়েছেন, এর প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। তাঁর কাছে কল রেকর্ড আছে এবং শিগগিরই সেগুলো প্রকাশ করবেন বলে জানান তিনি। জিএসের ১০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জকে হাস্যকর আখ্যা দিয়ে তাঁকে মিথ্যাচারের অভিযোগেও অভিযুক্ত করেন এজিএস।
পাল্টা বক্তব্যে জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিত হওয়ার পর এজিএসের মিথ্যা পোস্ট দেখতে পেয়ে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর আগে তাঁর সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো যোগাযোগ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এজিএসের সাহস থাকলে অভিযোগের প্রমাণ প্রকাশ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন জিএস।
এজিএসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে সাঈদ বিন হাবিব আরও দাবি করেন, পুরো এক বছরে তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব কোনো কাজ করেননি। ঢাকায় যাওয়ার পথে দুই মন্ত্রীকে দুটি স্মারকলিপি দেওয়া ছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ নেই বলেও মন্তব্য করেন জিএস। তাঁর অভিযোগ, মেয়াদের শেষ সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহির ভয়ে এজিএস বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছেন।
আরও পড়ুন:







