ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের নিক্বাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা এবং ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা নিক্বাব পরিহিত শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, পোশাক নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা, ক্লাস থেকে বের করে দেয়া ও হুমকি দেয়ার অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে ধর্মীয় পোশাক ও ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে যেকোনো ধরনের কটুক্তি ও হয়রানি বন্ধে সুস্পষ্ট একাডেমিক নীতিমালা প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা আশা করেছিলাম সব সেক্টরে সমতা থাকবে, ন্যায্যতা থাকবে, সবার অংশগ্রহণ থাকবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে খেয়াল করেছি, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান যে ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়েছিল, সেই ক্যাম্পাসেই আবার ফ্যাসিস্টের পুরনো সূত্র ধরে হিজাব-নিকাবকে টার্গেট করে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। আমরা এই ঘৃণ্য ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে কেউ যদি এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে চায়, আমরা বসে বসে দেখব না। আমাদের ধর্মীয় অধিকার, অনুভূতির প্রতি কেউ অসংলগ্ন আচরণ করলে আমরা তা মেনে নেব না। আমরা প্রতিবাদ করেছি, আমরা প্রতিবাদ করে যাচ্ছি, আমরা প্রতিবাদ করব এবং আমরা আমাদের অধিকার আদায় করে ছাড়ব।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি আফসানা আক্তার বলেন, প্রশাসনকে বলতে চাই, প্রত্যেকটা বিষয়ে তদন্ত কমিটির নামে হাজার হাজার কমিটি না করে আমরা এর সুস্পষ্ট বাস্তবায়ন চাই। আমরা এখানে কোনো বিশেষ সুবিধা চাইতে আসিনি। আমরা কোনো অনুগ্রহ চাই না। বৈধ অধিকারের দাবিতে আমরা বারবার প্রতিবাদ জানাতে চাই না। ধর্মীয় বিষয়ে কোনো শিক্ষক কটুক্তি করলে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা সুস্পষ্টভাবে একাডেমিক নীতিমালায় উল্লেখ করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে সুমাইয়া ফাহমিদা বলেন, এমন ঘটনা শুধু নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অপমানজনক ঘটনা। যে শিক্ষক এই হেনস্তার জন্য দায়ী, তাদেরকেই উদারতার গল্প শোনাতে দেখা যায়। তাদের উদারতা, ফেমিনিজম কেন যেন হিজাব-নিকাবের কাছেই থমকে যায়। হিজাব, নিকাব একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অধিকার। এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনোই মেনে নেবে না।
সুমাইয়া নুসরাত মিম বলেন, একজন শিক্ষিকা, যিনি কিনা আমাদের অভিভাবক, আমাদের আস্থার জায়গা, আমাদের ভরসার জায়গা হবেন, সেই শিক্ষিকাই যখন একজন শিক্ষার্থীকে পোশাকের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, ক্লাস থেকে বের করে দিচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন, এটি কখনোই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দ্রুত স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
তাহমিদা আকবর বলেন, একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় হিজাব-নিকাব নিয়ে বারবার কটাক্ষ করা হয় এবং বারবার একই বিষয়েই প্রতিবাদ জানাতে হয়, তাহলে আসলে আমরা কোন প্রগতিশীলতার পৃথিবীতে বাস করছি, এই প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিষয়টিকে আমরা দীর্ঘমেয়াদি হতে দেখতে চাই না। বিভাগের সকল শিক্ষার্থীদের দ্বারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ক্লাস বর্জনই তার অপরাধের প্রমাণ।
মানববন্ধন শেষে ৭ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন)-এর কাছে প্রদান করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টির যথাযথ গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী যেন তার ধর্মীয় পোশাক ও বিশ্বাসের কারণে হেনস্তা বা হয়রানির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে সুস্পষ্ট ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করবে।
আরও পড়ুন:







