বৃহস্পতিবার

৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

ঢাবিতে নিকাব পরায় শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে, সব ক্লাস থেকে অব্যাহতি

আরিফ জাওয়াদ, ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৮

আপডেট: ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৯

শেয়ার

ঢাবিতে নিকাব পরায় শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে, সব ক্লাস থেকে অব্যাহতি
ছবি: সংগৃহীত

ক্লাস চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগে নিকাবপড়ুয়া এক নারী শিক্ষার্থীকে অপমান, কটাক্ষ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে অপবাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের দিলে তাকে সব ধরনের ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি রেজুলেশন নেয়া হয়। সেই রেজুলেশনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বর্তমানে তার কোর্সগুলো থেকে পুনর্বণ্টন করা হয়েছে এবং কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের বিষয়ে উপাচার্য, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বিভাগের মাস্টার্সের ক্লাস চলাকালীন ওই হেনস্তার ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ক্লাসে পূর্ণ পর্দা করা এক শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে ওই শিক্ষক বলেন, এভাবে পর্দা করা যায় না, মুখ খোলা রাখা যায়, হাত-পা ঢাকতে হয় না। নিকাবের কারণে তিনি অস্বস্তি ও অনিরাপদ বোধ করছেন এবং ওই শিক্ষার্থী যেন সামনে না বসে, বরং সবার সঙ্গে পেছনে বসেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর ওপরও চড়াও হন ওই শিক্ষক। এরপর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ক্লাসরুম ত্যাগ করেন। সাথে সাথে আরও দুজন শিক্ষার্থী ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে যান। একপর্যায়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান।

এ নিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপে সরব হয়েছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। সুমি আকতার নামে এক শিক্ষার্থী লেখেন, উনার বামে বসা পরিপূর্ণ পর্দা করে আসা আমাদের ক্লাসমেটের উপর চড়াও হন। উনি বলেন, পর্দা এভাবে করে না, মুখ খোলা রাখা যায়, হাত-পা ঢাকতে হয় না। এরপর বললেন, তিনি নাকি আনকম্ফোর্টেবল ও আনসেইফ ফিল করেছেন, কারণ নিকাব পড়া শিক্ষার্থী তাকে ডিস্ট্র্যাক্ট করছে। মেয়েটা যেন সামনে আর না বসে, সবার সাথে পেছনে বসে।



আরও পড়ুন: