দেশে শিক্ষক নিয়োগের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রশিক্ষণের সুযোগ পান শিক্ষকরা। এর ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪১ শতাংশ শিক্ষক এখনো শিক্ষকতার মৌলিক প্রশিক্ষণ পাননি। মাদরাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েও বড়সংখ্যক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক ছিলেন তিন লাখ চার হাজার ৬৪৬ জন। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষিত ছিলেন ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ বা প্রায় এক লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন।
মাধ্যমিক পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষিত।
মাদরাসায় প্রশিক্ষণের হার আরও কম
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাদরাসা শিক্ষক রয়েছেন এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন। তাঁদের মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ প্রশিক্ষিত। ২০২৪ সালে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।
এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন এক লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন। তাঁদের প্রায় ২০ শতাংশের প্রশিক্ষণ নেই।
নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে শিক্ষকতায় প্রবেশের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে আগে নিয়োগ এবং পরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘদিন পাঠদান করছেন। এতে শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষণদক্ষতা প্রয়োগে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে প্রার্থীরা নিজেরাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার উদ্যোগী হবেন। যেসব শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নেই, তাঁদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটিও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ বা লেইস প্রকল্পের আওতায় তিন লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জনকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রশিক্ষণ ফাউন্ডেশন কোর্স নয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো : পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন ও আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ৬০ বছরের অঙ্গীকার। দিবসটি উপলক্ষে সরকার সেরা শিক্ষক নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।
আরও পড়ুন:







