বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবস্থান পিছিয়ে গেলেও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে অগ্রগতি করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশনের (THE) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এ চবির অবস্থান ১৪০১–১৬০০তম ব্যান্ডে নেমে এসেছে। এর আগের দুই বছর বিশ্ববিদ্যালয়টি ১২০১–১৫০০তম ব্যান্ডে ছিল। তবে সামগ্রিক অবস্থানের অবনতির মধ্যেও রিসার্চ এনভায়রনমেন্ট, টিচিং এবং ইন্ডাস্ট্রি কন্ট্রিবিউশন—এই তিন সূচকে চবির স্কোর বেড়েছে।
বুধবার প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
এবারের র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ১১৮টি দেশের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। তালিকায় টানা ১১তমবারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড। এবার প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক শীর্ষ ১৫-তে জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার তিন বিশ্ববিদ্যালয়—চীনের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি, পেকিং ইউনিভার্সিটি এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর (এনইউএস)।
তিন সূচকে অগ্রগতি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ এনভায়রনমেন্ট সূচকে ধারাবাহিক উন্নতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে এ সূচকে চবির স্কোর ছিল ৯.৩। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৯.৫ এবং ২০২৭ সালে আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.৯-এ।
ইন্ডাস্ট্রি কন্ট্রিবিউশন সূচকেও চবির স্কোর বেড়েছে। ২০২৫ সালে ২১.৮ এবং ২০২৬ সালে ২২.৮ স্কোরের পর এবার এ সূচকে চবির স্কোর ২৩.৮।
অন্যদিকে টিচিং সূচকে ২০২৬ সালের ১১.৫ স্কোর থেকে ২০২৭ সালে চবির স্কোর বেড়ে হয়েছে ১২.৩। যদিও ২০২৫ সালের ১৫.৬ স্কোরের তুলনায় বর্তমান স্কোর এখনও কম।
দুই সূচকে কমেছে স্কোর
তিন সূচকে অগ্রগতি হলেও কোয়ালিটি রিসার্চ ও ইন্টারন্যাশনাল আউটলুক সূচকে চবির স্কোর কমেছে।
কোয়ালিটি রিসার্চ সূচকে গত বছর চবির স্কোর ছিল ৬০.৭। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭.৩-এ। একইভাবে ইন্টারন্যাশনাল আউটলুক সূচকে ২০২৬ সালের ৫৫.২ স্কোর থেকে এবার কমে হয়েছে ৫৩.৬।
অর্থাৎ গবেষণার পরিবেশ ও শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগে উন্নতি হলেও গবেষণার মান ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সূচকে চবির স্কোর কমেছে।
বিষয়ভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান
সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে অবনতি হলেও নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ে কয়েকটি ক্ষেত্রে অবস্থান ধরে রেখেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
কম্পিউটার সায়েন্সে চবি রয়েছে বিশ্বব্যাপী ৬০১–৮০০তম ব্যান্ডে। বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস এবং ইঞ্জিনিয়ারিং—উভয় বিষয়েই বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ৮০১–১০০০তম ব্যান্ডের মধ্যে।
এদিকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ভিত্তিতে প্রকাশিত THE Impact Rankings ২০২৫-এও চবির সামগ্রিক অবস্থানের অবনতি হয়েছে। ২০২৪ সালে ১০০১–১৫০০তম ব্যান্ডে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৫ সালে ১৫০১+ ব্যান্ডে চলে যায়।
তবে পৃথক এসডিজি সূচকে চবির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান রয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে (এসডিজি-১) ৮০১–১০০০তম, গুড হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ে ১০০১–১৫০০তম, কোয়ালিটি এডুকেশনে ১০০১–১৫০০তম, লাইফ বিলো ওয়াটার ও লাইফ অন ল্যান্ড—উভয় সূচকে ৪০১–৬০০তম এবং অসমতা হ্রাসে ৮০১–১০০০তম অবস্থানে রয়েছে চবি।
‘আগামী বছর র্যাঙ্কিং আরও ভালো হবে’
THE-এর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে টিচিং, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিল্পখাতে অবদান—এই পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র বিবেচনা করা হয়।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং সেল গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, শিক্ষা ও গবেষণায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমর্যাদায় উন্নীত করতে পারব। আগামী বছর আমাদের র্যাঙ্কিং আরও ভালো হবে বলে আমি আশা করি।”
আরও পড়ুন:







