ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) গঠনতন্ত্র সংস্কার করে দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক লিখিত বক্তব্যে অতিদ্রুত গঠনতন্ত্র সংস্কার করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।
মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ইতিমধ্যে ডাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ডাকসু গঠনতন্ত্রে নির্বাচনের মেয়াদ নির্দিষ্ট করা আছে। প্রশাসনের উচিত ছিল মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং তফসিল ঘোষণা করা। আমরা মনে করি, গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত অতিরিক্ত ৯০ দিনের সুযোগকে নির্বাচন বিলম্বিত করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক পরিবেশও যুক্ত। একটি গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের নিয়মিত সুযোগ থাকা প্রয়োজন। ডাকসু শিক্ষার্থীদের নিজেদের অধিকার ও দাবি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। শিক্ষা ও আবাসনসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা ছাত্র সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মধ্যে পড়ে। ডাকসুর মাধ্যমে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও প্রার্থীরা নিজেদের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে পারেন। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অবস্থান সম্পর্কে জানতে এবং সেগুলো বিচার করার সুযোগ পান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পরিসরও তৈরি হয়।
ডাকসুর গঠনতন্ত্রেও শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, নেতৃত্ব তৈরি, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তাই ডাকসু নির্বাচনকে প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের দাবি, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে নির্বাচনের তারিখও যুক্ত করতে হবে। নির্বাচনকে নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিণত করার মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
মোজাম্মেল হক বলেন, নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি ডাকসুর গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। ডাকসুর গঠনতন্ত্রে বেশ কিছু বিধান আছে যা অগণতান্ত্রিক। ডাকসুর উপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ অতিরিক্ত। উপাচার্য পদাধিকারবলে সভাপতি থাকায় তার অতিরিক্ত ক্ষমতা, সভা পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গঠনতন্ত্র সংশোধন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের মতো বিধানগুলো পুনর্বিবেচনা করে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের কার্যকর ক্ষমতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা এবং প্রার্থী ও সংগঠনগুলোর অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। হল সংসদের ক্ষেত্রেও প্রভোস্টের একক ক্ষমতা কমিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় তিনি ৩ দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা; প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে। ডাকসু নির্বাচনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত এবং সভাপতি ও প্রশাসনের একক ক্ষমতা কমিয়ে ক্ষমতা কাঠামোয় ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা নিশ্চিত।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকাশ আলীর সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য ও কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের জিএস রুকু খাতুন, তানজিলা রহমান প্রভা, রাসেল হোসেনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:







