নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ২১তম ব্যাচের এক নবীন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে র্যাগিং, শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি এবং সর্বশেষ শ্রেণিকক্ষে আটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম জহিরুল ইসলাম রকি।
গত বৃহস্পতিবার ‘সেশন’ করার কথা বলে তাকে বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ সময় তার মুখ ও ঘাড়ে সজোরে দুটি থাপ্পড় দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাকে এক পায়ে দাঁড় করিয়ে কান ধরিয়ে রাখা, একই সঙ্গে অন্য কাজ করতে বাধ্য করা, বিভিন্ন গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া, ব্যাচ থেকে বয়কট এবং ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম রকি বলেন, আমি ফিজিক্স বিভাগ থেকে মাইগ্রেশন হয়ে যেদিন প্রথম পরিসংখ্যান বিভাগে আসি, সেদিন থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। আমাকে ছোট ছোট বিষয় নিয়ে এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো, কান ধরানো হতো। এক পায়ে দাঁড় করিয়ে এক হাত দিয়ে কান ধরিয়ে আরেক হাতে অন্য কাজ করানো হতো।সিনিয়রদের নির্দেশে আমাকে নোটিশ গ্রুপসহ সব গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ফলে আমি ক্লাস ও পরীক্ষার বিষয়ে জানতে পারতাম না। স্কুল-কলেজের মতো প্রতিদিন আসতাম। এছাড়া ব্যাচ থেকে বয়কটসহ ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়।
রকির অভিযোগ, ব্যাগে থাকা একটি মার্কার দিয়ে দেয়ালে নিজের নাম লেখার পর থেকেই তার ওপর মানসিকভাবে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তাকে বিভিন্ন সময় সেশনে দাঁড় করিয়ে একই প্রশ্ন বারবার করা হতো। উত্তর দেওয়ার পরও তা গ্রহণ না করে বিভিন্ন খুঁত ধরে তাকে অপমান করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী বলেন, সেশনের একপর্যায়ে ২১তম ব্যাচের সব নারী শিক্ষার্থীকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর আমাকে মারধর করা হয়। প্রথম থাপ্পড়টি অনেক জোরে ছিল। থাপ্পড় দেওয়ার পর আমার দাঁত থেকে রক্ত বের হয়। তখন রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী আমাকে বলেন, “সেয়ানা হইছস?”
তিনি আরও বলেন, পরে আমি বসে কান্না করতে থাকি এবং বলি, আমি চেয়ারম্যানের কাছে যাব, প্রক্টরের কাছে যাব। তখন তারা দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। অন্য সিনিয়ররা এসে আমাকে অভিযোগ না করার জন্য বোঝাতে থাকে। ওই সময় আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। এখনো বিষয়টি মনে পড়লে আতঙ্ক লাগে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এটা ডিপার্টমেন্টের ইস্যু, ডিপার্টমেন্টেই সলভ হবে, ও (ভুক্তভোগী) একটু ভুল করে ফেলছে, এ বিষয়ে আমি বক্তব্য দিতে চাচ্ছি না।এরপর মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।
এ বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নাজমা বেগমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ.এফ.এম. আরিফুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছে। র্যাগিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। আমি তাকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানোর কথা বলেছি এবং লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব।
আরও পড়ুন:







