ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময়সীমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত পরিবেশ ক্যাম্পাসে। ‘অবরোধবাসিনী’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে রাত ১০টার নিয়মকে বা ‘সান্ধ্য আইন’ নিয়ে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীদের একাংশ। ২৪ ঘণ্টা হল খোলা রাখা ও নারী স্বজনদের প্রবেশের সুযোগসহ তিন দফা দাবিতে প্রশাসনকে দেয়া হয় ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও আন্দোলনকারীদের প্রতিক্রিয়া
অবশেষে, পদক্ষেপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সান্ধ্য আইন পুরোপুরি বাতিল না করে মধ্যস্থতার পথ বেছে নেয় প্রশাসন। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর গেট বন্ধের সময়সীমা রাত ১০টার পরিবর্তে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। তবে আন্দোলনকারীরা একে আংশিক প্রস্তাব আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখান করে।
সাধারণ ছাত্রীদের ক্ষোভ
ঠিক এই জায়গায় সামনে আসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ। আন্দোলনের নামে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর এই দাবিকে সার্বজনীন মানতে নারাজ হলের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্রী। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা অবকাঠামো ছাড়া সারারাত হলের গেট খোলা রাখা সাধারণ মেয়েদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ডাকসু প্রতিনিধিরা জানায়, সব সমস্যা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সমাধান করা হবে। একইসাথে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়ে তারা বলে, কোনো ধরণের অযৌক্তিক কারণে যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে একটি স্থায়ী সমাধান জরুরি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানান, হলে প্রবেশ এবং বের হওয়ার সময়সীমা ১ ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি হলের সার্বিক ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গণমাধ্যম নিয়ে অভিযোগ ও ইলিয়াস হোসাইনের মন্তব্য
এদিকে ক্যাম্পাসের এই বাস্তব চিত্র ও সাধারণ ছাত্রীদের মতামত আড়াল করার অভিযোগ উঠেছে দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তারা নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার নীতি পাশ কাটিয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সুবিধা অনুযায়ী একপেশে সংবাদ পরিবেশন করছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসাইন। পোস্টে তিনি লেখেন, ডেইলি স্টারের ডিজিটাল মাধ্যমের সংবাদে যাদের বক্তব্য দেখানো হয়েছে, তাদের চালচলন ও দাবি সাধারণ নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তৎকালীন সময়ে অধিকাংশ ছাত্রী হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূলত এই সময়সীমার নিয়ম চালু করা হয়েছিল।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইলিয়াস হোসাইন আরও লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী হলে কেবল একটি বিশেষ মানসিকতার মেয়ে শিক্ষার্থীরাই থাকে না। সারা রাত বাইরে অবস্থান করার ইচ্ছে থাকলে, হলের পরিবেশ নষ্ট না করে বাইরেই থাকার পরামর্শ দেন তিনি। একইসাথে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের তৈরি একপেশে বয়ানের বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্রীদের সরব ও প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অধিকারের নামে গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর অনিয়ন্ত্রিত চাওয়ার বিপরীতে মুখোমুখি সাধারণ ছাত্রীদের নিরাপত্তার শঙ্কা। মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রচারিত সংবাদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের বাস্তব ভাবনার এই দূরত্ব, ঢাবির পরিবেশকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন:







