দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা বাড়াতে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একইসঙ্গে গবেষণা খাতে বিশেষ বরাদ্দ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টেকসই গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
সোমবার ইউজিসির ১৭৯তম পূর্ণ কমিশন সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
তিনি জানান, ইউজিসির নিজস্ব পিএইচডি স্কলারশিপের সংখ্যা ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে পিএইচডি করার সুযোগও ১০টি থেকে বাড়িয়ে ৩৫টি করা হয়েছে। পাশাপাশি পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণায় বিশেষ বরাদ্দের জন্য আগামী অর্থবছরে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউজিসি।
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি পিএইচডির সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। গুণগত গবেষণা নিশ্চিত করতে ইউজিসি এরইমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গবেষণাবান্ধব ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পিএইচডির সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কার্যক্রমে পরিণত করতে চায় ইউজিসি। গবেষণার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি এর মান, প্রভাব ও ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাও কমিশনের অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, দক্ষ গবেষক তৈরি, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলা, টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা, দেশি-বিদেশি সহযোগিতা বাড়ানো এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় ‘ইউজিসি প্রমোশনাল অ্যান্ড একাডেমিক স্টাফ ডেভেলপমেন্ট গবেষণা প্রকল্প নীতিমালা, ২০২৬’ অনুমোদন দেয়া হয়।
এসময় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:







