হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলেজছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়াশোনার জন্য প্রায় ৭৩ লাখ টাকার (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) আন্তর্জাতিক বৃত্তি পেয়েছেন। চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় প্রতি বছর তিনি ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠির মাধ্যমে জেমিকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেমি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। প্রোগ্রামটি সফলভাবে শেষ করার পর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান তিনি।
বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের ওই সামার স্কুলে অংশ নেওয়া জেমির জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সফলভাবে প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করেন।
জেমির বাবা আফজল আলী শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবারের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় জেমি পড়াশোনা চালিয়ে যান।
বৃত্তি পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জেমি বলেন, এমন একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে তাঁর বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ার পর বিষয়টি বিশ্বাস করতে শুরু করেন। এখন তিনি নিজেকে আরও প্রস্তুত করছেন এবং আরও এগিয়ে যেতে চান। পাশাপাশি আরও শিক্ষার্থী যেন এ বৃত্তি অর্জন করতে পারে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। জেমি তার প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, জেমির এ অর্জন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
এদিকে, জেমির বৃত্তি পাওয়ার খবরটি এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়ে তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছেন।
আরও পড়ুন:








