রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মাদক গ্রহণ ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই শিক্ষার্থী নিজের পরিচয় ও কিছু সিনিয়র শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মো. রহিদুল ইসলাম। তিনি তেজগাঁওয়ের এম এইচ শামারিতা মেডিকেল কলেজের এমএইচ-১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। তিনি কলেজের স্থানীয় শিক্ষার্থী কমিটির সঙ্গেও যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়মিত মাদক স্পটে যাতায়াতের অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, তেজগাঁও এলাকার কয়েকটি কথিত মাদক স্পটে ওই শিক্ষার্থীর নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। সেখানে তিনি বিভিন্ন ধরনের মাদক গ্রহণ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে সত্যতা যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে এর আগে একাধিকবার তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, সতর্ক করার পরও তার আচরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি।
পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ওই শিক্ষার্থী নিজের মেডিকেল কলেজের পরিচয় এবং কিছু সিনিয়র শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে অন্যদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। ফলে কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে বা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাতে দ্বিধা করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
যদি এ ধরনের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এটি শুধু একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত আচরণের বিষয় নয়; বরং একটি মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের পেশাগত নৈতিকতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বিষয়।
চিকিৎসাশিক্ষার্থী হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেশি
চিকিৎসাশিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সমাজ সাধারণত দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রত্যাশা করে। একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী যদি সত্যিই মাদকাসক্তি বা মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে বিষয়টি ব্যক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি তার ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার্থীদের মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেলে শুধুমাত্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পরামর্শ, পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তার ব্যবস্থাও থাকা উচিত।
তদন্তের দাবি
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তদন্তের ক্ষেত্রে অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রাসঙ্গিক নথি এবং অন্যান্য যাচাইযোগ্য তথ্য বিবেচনা করা যেতে পারে।
একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে তার বক্তব্য নেওয়াও জরুরি। এই প্রতিবেদনের প্রকাশের আগে মো. রহিদুল ইসলাম এবং এম এইচ শামারিতা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
তরুণ প্রজন্মের জন্য সতর্কবার্তা
মেডিকেল কলেজসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
একজন চিকিৎসাশিক্ষার্থীকে ঘিরে ওঠা এমন অভিযোগ তাই কেবল ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও প্রতিষ্ঠানের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসনের সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:








