ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অপতৎপরতার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় শাখা ছাত্রদল। রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী দুই শিক্ষক ও তিন কর্মকর্তার অপতৎপরতার প্রতিবাদে এ অবস্থান নেয় তারা। এতে তাদেরকে হুমকি ও অফিসরুম ভাংচুরের অভিযোগ ওঠে। পরে ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে তাগিদ দেয় সংগঠনটি।
জানা যায়, ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পোস্ট দেয়। এছাড়া ডিসেম্বরে পলাতক হাসিনাকে ফেরাতে গোপন কর্মকান্ডে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এরই প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা, প্রশাসন ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনসহ টিএসসিসি ও লাইব্রেরিতে অবস্থানরত আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে নেতাকর্মীরা হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইন্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখার ড. ইব্রাহীম হোসেন সোনা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহম্মেদ ও টিএসসির সহকারী রেজিস্টার বিপুল আহমেদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে হুমকি ও অফিসরুম ভাঙচুর করে বলে জানা গেছে।
হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি অফিসে বসেছিলাম। কিছু ছেলেপেলে এসে আমাকে বলছে- ‘আপনি গতকাল শেখ মুজিবকে নিয়ে পোস্ট দিছেন, কালকে থেকে আসবেন না।' এসময় তারা আমাকে গালিগালাজ করে এবং হুমকি-ধামকি দেয়। গতকালকে ১৫ই আগস্ট ছিলো। সেজন্য একটা পোস্ট দিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে। সেটা নিয়ে তারা কৈফিয়ত জানতে চেয়েছে এবং তাদের যে কথাবার্তা বোঝা গেছে তারা একটা নির্দিষ্ট সংগঠনের।
এ বিষয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন,'তারা আমার রুমে এসেছিলো, তারা আমার গায়ে হাত তোলেনি। এমনকি আমি কোনো হেনস্তারও শিকার হইনি। এটা সত্য যে তারা আমার রুমে বঙ্গবন্ধুর ছবি পেয়েছে। যেহেতু প্রক্টর এই বিভাগের তাই সেই ভালো জানে, যেহেতু সে প্রক্টর।'
কর্মকর্তা টিটুল আহমেদ বলেন, আমি দৈনন্দিনের মতো কাজকর্ম করতেছিলাম। সেসময় ১০-১৫ জন পোলাপান এসে 'শালা তুই আওয়ামী লীগ করিস, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোস্ট করিস, শোকের পোস্ট 'এই বলে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করে। বিভিন্ন ভাবে মারতে আসে আমাকে। আমাকে ক্যাম্পাসে আসতে নিষেধ করে। আমার টেবিলে থাকা প্লেট ভাঙচুর করে। তারা আননোন ফেস ছিলো। পরে, জানতে পারলাম ছাত্রদলের ছেলেপেলে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, 'কারো গায়ে হাত তোলা হয়নি, কোনো ভাঙচুরও করা হয়নি। মাহবুবের রুমে শেখ মুজিবের ছবি ছিলো সেটা সড়ানো হয়েছে। নিষিদ্ধ লীগের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। যারা খালেদা জিয়াকে নিয়ে বাজে কথা বলবে তাদেরকে আমরা ছেড়ে দিয়ে কথা বলতে পারিনা। তাদের নেতৃ নাকি ডিসেম্বরে আসবে সেজন্য তারা বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে। শান্ত ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার জন্য তারা নাকি যা ইচ্ছা তাই করবে। এত এত হত্যা করার পরও এদের কোনো অনুশোচনাবোধ নাই। এদের বিরুদ্ধে আমারদের জিরো টলারেন্স।'
এ বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আজকে যেসব ঘটনা ঘটেছে প্রক্টরিয়াল বডি সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে সেগুলো হ্যান্ডেল করেছে।
উল্লেখ্য,আওয়ামী আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুদের মক্তবকে জঙ্গী তৈরির কারখানা আখ্যা দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে ‘সন্ত্রাসী’ সাজানোর চেষ্টা, জঙ্গী ট্যাগে হেনস্তা, নিয়োগ বাণিজ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের হুমকি-ধামকি এবং পুলিশি হয়রানির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ইবিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল দমনে সামনের সারির মূল হোতা ছিলেন তিনি। এসব বিষয়ে পূর্বে সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
আরও পড়ুন:








