বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আপত্তি ও নির্দেশনা অমান্য করে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার/সমমান চতুর্থ গ্রেডের পদে পদোন্নতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এবার ওই পদে পাওয়া অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে বেরোবির সংস্থাপন শাখার প্রধান ও অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে। তবে ড. জিয়াউল হক জানিয়েছেন, তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার নয়, ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে আবেদন করেছেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন ড. জিয়াউল হক অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার/সমমান চতুর্থ গ্রেডের পদে পদোন্নতি পান। এর আগে একই বছরের ৩০ মে ইউজিসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ ধরনের পদে পদোন্নতি না দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এসব পদোন্নতি বাতিল এবং পদোন্নতির ফলে অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশনাও দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে ইউজিসির অডিট আপত্তির আওতাতেও রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, বেরোবিতে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার/সমমান চতুর্থ গ্রেডে মোট ১২ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনের পদোন্নতি সরকারি নির্দেশনা ও বিধিমালা অনুসরণ করে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউজিসি এসব পদোন্নতির অনুমোদন না দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত বেতন-ভাতা প্রদান না করার নির্দেশনা দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশিদের সময়ে ইউজিসির নির্দেশনা ও চিঠি থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি বোর্ড আয়োজন করা হয়। একপর্যায়ে একই দিনে আটজন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার/সমমান চতুর্থ গ্রেডের পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ইউজিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ইউজিসির অডিট বিভাগের একজন সদস্যকে প্রধান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামকে সদস্য এবং ইউজিসির লিগ্যাল শাখার একজন সিনিয়র সহকারী সচিবকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি এখনো জমা পড়েনি বলে জানা গেছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. জিয়াউল হক বেরোবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ফেরদৌস রহমানের কাছ থেকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয়নপত্র নিয়েছেন। ওই প্রত্যয়নপত্রকে অভিজ্ঞতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার পদে আবেদন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ইউজিসির আপত্তি ও অডিট আপত্তির আওতায় থাকা পদে অর্জিত অভিজ্ঞতার প্রত্যয়ন অন্য একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ইউজিসি যখন পদোন্নতির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন, তখন ওই পদে অর্জিত অভিজ্ঞতার প্রত্যয়ন নিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ড. জিয়াউল হক বলেন, তিনি সেখানে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে আবেদন করেছেন। এখনো তিনি বেরোবির চাকরি ছাড়েননি।
তার আবেদন করা পদে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে পাওয়া অভিজ্ঞতার প্রত্যয়ন কীভাবে বিবেচিত হবে এবং ইউজিসির তদন্তে তার পদোন্নতির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা এখন দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন:








