রাজধানীর ঢাকা কলেজে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে আহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজ শাখার উদ্যোগে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও জুলাইয়ে আহতদের সম্মাননা অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গ্যালারি-০২-এর সামনে পোস্টার লাগাচ্ছিলেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মামুন শেখ অভিযোগ করেন, তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে পোস্টার লাগাচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। এতে তাদের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক আব্দুল মালেকের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ঘটনার পর দুপুর দেড়টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঢাকা কলেজের আবাসিক হল এলাকায় অবস্থান নেন। পরে অডিটোরিয়ামে কিছু সময় অবস্থান করার প্রায় ২০ মিনিট পর কলেজের মূল ফটকের সামনে দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ছাত্রদলের পাল্টা অভিযোগ
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মিল্লাদ হোসেন অভিযোগ করেন, সকালে ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন এবং ক্যাম্পাসে সহিংসতা প্রতিহত করবেন।
সাংবাদিকদের বাধার অভিযোগ
সংঘর্ষের সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লাঠিসোঁটা হাতে ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় সাংবাদিকদের ভিডিও ফুটেজ ধারণে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:








